সিপ্লাস ডেস্ক: মহামারীকালে বাজেট পাসের জন্য সংসদের অধিবেশন ডেকে তা ১২-১৫ দিন চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তা আর সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এবার বাজেট অধিবেশন ৮-৯ কার্যদিবসে সীমাবদ্ধ হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনার দিন ও ঘণ্টা কমছে।
পরিবর্তিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সাধারণ বাজেটের উপর আলোচনা হবে মাত্র তিন দিন ২৩, ২৪ ও ২৯ জুন।
২৯ জুন অর্থ বিল পাশের দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেটের সমাপনী আলোচনায় অংশ নেবেন।
৩০ জুন পাস হবে বাজেট। এরপর একদিন অধিবেশন চলতে পারে।
সরকারি দলের হুইপ ইকবালুর রহিম সোমবার বলেন, “করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“তিন দিন বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে। বাজেট পাসের পর হয়তো একদিন অধিবেশন চলতে পারে। সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
প্রতি বছর জুন মাসজুড়ে বাজেট অধিবেশন চলার পর তা জুলাইয়েও প্রলম্বিত হয়। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বাজেট অধিবেশন বসেছে স্বল্প সংখ্যক সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে। সাংবাদিক কিংবা অতিথিদেরও ঢোকার সুযোগ নেই।
অধিবেশন কতদিন চলবে তা প্রতি অধিবেশনের আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলেও এবার তাও হয়নি।
এবার বাজেট অধিবেশন কতদিন চলতে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ সচিবালয় থেকে একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। সে অনুযায়ী অধিবেশন ১২-১৫ কার্যদিবস চলার কথা।
পূর্বের সূচি অনুযায়ী, ১০ জুন বুধবার সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরুর পর শোক প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ। পরের দিন ১১ জুন বাজেট পেশ ও অর্থ বিল উত্থাপন। এরপর ১২ ও ১৩ জুন বৈঠক মুলতবি রেখে ১৪ এবং ১৫ জুন সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনা সম্পূরক বাজেট পাস করার কথা ছিল। পরদিন শুরু হবে প্রস্তাবিত সাধারণ বাজেটের উপর আলোচনা।
জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর কারণে রোববার অধিবেশন শোক প্রস্তাবের পর মুলতবি হয়। সেকারণে সোমবারই আলোচনা করে সম্পূরক বাজেট পাস হয়।
পূর্ব সূচি অনুযায়ী, ১৬ জুন মঙ্গলবার ও ১৭ জুন দুইদিন আলোচনা শেষে ১৮ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি থাকার কথা। এরপর ২২ জুন থেকে ২৪ জুন আরও তিন দিন এ বাজেটের উপর আলোচনা করে ২৫ জুন থেকে ২৮ জুন চার দিনের বিরতি হওয়ার কথা।
২৯ জুন সোমবার বাজেটের উপর সমাপনী আলোচনার পর অর্থবিল পাস হগবে। পরদিন ৩০ জুন মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। এরপর আরেকটি বিরতি দিয়ে ৮ বা ৯ জুলাই একদিনের জন্য অধিবেশন বসে সেদিন সমাপ্তি ঘোষণা হবে।
কিন্তু পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী সোমবার থেকে ২৩ জুন বৈঠক মুলতবি থাকবে। ২৩ ও ২৪ জুন সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ জুন সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও অর্থমন্ত্রীর বাজেট আলোচনা এবং অর্থবিল পাস আর ৩০ জুনের বাজেট পাশের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে সম্পূরক ও সাধারণ বাজেটের উপর ২০ থেকে ২২ ঘণ্টার মতো আলোচনার সিদ্ধান্ত হলেও তা কমিয়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টায় সীমিত করা হচ্ছে।
সচরাচর বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হয়। অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের উপর কমপক্ষে দুই থেকে চার দিন এবং সাধারণ বাজেটের উপর ১২ থেকে ১৫ দিন আলোচনা হয়। বাজেট নিয়ে ৫০ থেকে শুরু করে ৬৫ ঘণ্টার মতো আলোচনার রেকর্ড রয়েছে।








