Site icon CPLUSBD.COM

সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ অসম্প্রদায়িক বসবাসের জন্য স্বাধীনতা- বীর বাহাদুর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উসৈচিং বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন দেশের সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বসবাস করবে। তার সেই স্বপ্ন পূরণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এই পার্বত্য জেলার সকল সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শান্তি চুক্তি করেছিলেন। যার সুবাতাস এখনোও বিরাজমান, তাই সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ এই প্রয়াত ভান্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় একত্র হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, মানুষ পৃথিবীতে বেচে থাকেন তার সুকর্মের মাধ্যমে, তাই ভালো কাজ মানুষকে মৃত্যুর পরও বাঁচিয়ে রাখে। কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীর ঐতিহ্যবাহী পুরনো নারানগিরি রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রয়াত ভদন্ত উ পঞ্ঞাকাওয়ি মহাস্থবির ভান্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান প্রধান দায়েকের বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং (এমপি) বলেন।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাইখালী স্বর্গীয় অংথোয়াইচিং চৌধুরী খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের দায়ক দায়িকাদের আয়োজনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারানগিরি বড়পাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত নাগাওয়াসা মহান্তবির।

এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি বৌদ্ধ বিহারের বিহারধ্যক্ষ ভদন্ত আসবা মহাস্তবির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাঙালহালিয়া ডাকবাংলা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারধ্যক্ষ ভদন্ত ঞানাওয়াইসা মহাস্তবির, চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারের বিহারধ্যক্ষ ভদন্ত পামোক্ষা মহাস্তবির।

এছাড়া অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ দায়ক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য চিংকিউ রোয়াজা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী, সদস্য প্রকৌশলী থোয়াইচিং মং মারমা, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল হক, রাজস্থলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উবাচ মারমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল, রাইখালী মৌজার হেডম্যান উচিংথোয়াই চৌধুরী বাবলু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের আহবায়ক থোয়াইসাপ্রু চৌধুরী রুবেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হরিনছড়া ভাইজ্যাতলী মৌজার হেডম্যান থোয়াই অং মারমা। এদিকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে শুক্রবার হতে শুরু হয়েছে রাইখালী স্বর্গীয় অংথোয়াইচিং চৌধুরী খেলার মাঠে ২ দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অন্ষ্ঠুানসুচী। জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন এর মাধ্যমে কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। এর পর শোভাযাত্রা সহকারে শবদেহ আলং চাইংক্যই এ স্থানান্তর করা হয়, এছাড়া মারমা সম্প্রদায়ের সইং নৃত্য এবং ধর্মীয় নাটক পরিবেশিত হয়।

উল্ল্যেখ যে, প্রয়াত ভদন্ত উ পঞ্ঞাকাওয়ি ৮৮ বছর বয়সে ৬৮টি বর্ষা বাস করেন, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একজন পূজনীয় ভান্তে হিসাবে সু পরিচিত ছিলো। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম এবং দেশের অন্যান্য জায়গা হতে বিভিন্ন বিহারে পুজনীয় ভিক্ষু সংঘ এবং হাজার হাজার দায়ক দায়িকা উপস্থিত ছিলেন। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ক্রীড়া উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানস্বলের আশেপাশে মেলা বসে। পরে আতশবাজি ও ফানুস উড়ানোর মাধ্যমে ২ দিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বক্তারা প্রয়াত ভদন্ত উ পঞ্ঞাকাওয়ি মহাস্থবির ভান্তের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তিনি ৬৮ বছর ধরে ভ্রম্যচিত্র জীবন যাপন করেছে। চাহিদা বলতে তার কোন কিছুই ছিলনা। মরণের মৃত্য আছে, জীবনের মৃত্যু নেই। মরণের মধ্যে ইতিহাস হয়না। জীবন দিয়ে ইতিহাস গড়তে হয়। সেই দিষ্টান্তই স্থাপন করেছেন তিনি। তিনি আমাদের জন্য একজন প্রতিষ্ঠান। ফটো ক্যাপশনঃ কাপ্তাইয়ে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উসৈসিং এমপি।