সন্দ্বীপ প্রতিনিধি: সরকার দেশের দরিদ্র অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য বয়ষ্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করছে।
সন্দ্বীপ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের এসব সুবিধা ভাতা কৃষি ব্যাংক শিবের হাট শাখার মাধ্যমে প্রদান করা হয়। দরিদ্র মানুষের মাঝে এসব সরকারি ভাতা প্রদানের সময় ব্যাংক থেকে মাথাপিছু হারে কমিশন আদায় করছে ব্যাংকে কর্মরত ৩ ক্যাজুয়াল কর্মচারী (সেন্ট্রি)।
সরেজমিনে দেখাযায়, রবিবার সকাল থেকে কৃষি ব্যাংক শিবের হাট শাখায় বয়ষ্ক ভাতার টাকা বিতরণ করছিল। প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ৩ হাজার টাকা এবং প্রতিস্থাপন বইয়ের বিপরীতে ৯ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকের ক্যাজুয়াল কর্মচারী (সেন্ট্রি) সাইফুল আজম ও তার এক সহযোগী ভাতা প্রদান করে। এসময় ৩ হাজার টাকা ভাতা ভোগী থেকে ২০ টাকা এবং ৯ হাজার টাকা সুবিধাভোগীদের থেকে ১০০ টাকা করে নেয়।
কেন টাকা নিচ্ছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে টাকা আদায়কারী সাইফুল জানান, আমরা ভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তির চেকে আঙ্গুলের টিপসই দিতে ২০ টাকা করে নিচ্ছি। চেকে টিপসই নিতে কোন খরচ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি (সাইফুল) বলেন, এটি আগে থেকে নিয়ে আসছে। তাই আমিও নিচ্ছি।
জানাযায়, সেন্ট্রি সাইফুল আজম কৃষি ব্যাংক শিবের হাট শাখায় আড়াই বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক কর্মরত রয়েছে। নকিব নামের একজনের নেতৃত্বে তারা তিনজনে সিন্ডিকেট করে প্রতিবার ভাতা প্রদানের সময় এভাবে টাকা আদায় করে আসছে।
ব্যাংকে ভাতার জন্য আসা আরেক সুবিধাভোগী মহিলা অভিযোগ করে বলেন, আমার নতুন বইয়ের (প্রতিস্থাপন) ৯ হাজার টাকা দেওয়া কথা। আমাকে দিয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে শাখা ব্যাবস্থাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, টাকা নেওয়ার সত্যতা আমি পেয়েছি এবং ৯ হাজার টাকার মধ্যে ভুলবশত ৩ হাজার টাকা দিয়েছে বলে আমাকে স্বীকার করেছে। বাকী ৬ হাজার টাকা দিয়ে দিতে বলেছি। ভাতার টাকা প্রদানের জন্য কোন টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। যারা টাকা নিয়েছে তারা আমাদের ব্যাংকের কেউ নয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা(ভারঃ) রাজীব আচার্য্য বলেন, সরকারি ভাতা প্রদানে সুবিধাভোগীর কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা আদায়ের নিয়ম নেই। তদন্তের ভিত্তিতে এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








