সিপ্লাস প্রতিবেদক: সকালে থেকে একদিনের বৃষ্টিতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ডুবলো পানির নিচে। নগরীর দুই তৃতীয়াংশ এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পানি, এমনকি গলা পানিতে ডুবে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সমন্বয়হীনতার কারণে চট্টগ্রাম এখন বসবাসের অযোগ্য নগরী হয়ে উঠেছে। এমন মন্তব্য করেছেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক ডা শাহাদাত হোসেন।
রবিবার (৬ জুন) সামান্য বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরী পানিতে ডুবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
ফলে বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। নগরীর ফ্লাইওভারগুলোও পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হন নগরবাসী। মূলত সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ সহ অন্যান্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণেই এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সমন্বয়হীনতার কারণে ক্রমান্বয়ে চট্টগ্রাম নগরী ভারসাম্যহীন হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরো দুর্ভোগ তৈরি করছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে চলমান খালগুলোতে বাধ দেওয়ায় আজকে চট্টগ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম নগরীতে এখনও কোনো স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। কমবেশি ৬০ লাখ নগরবাসীর মলমূত্র গিয়ে মিশছে কর্ণফুলী নদীতে।
তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন সড়কে মাস্টারপ্ল্যান উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হয়েছে ফ্লাইওভার। শহরের প্রধান সড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণ ছিল মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। শহরের কেন্দ্রস্থলে ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। দখল হয়ে গেছে অনেক খাল, ছড়া ও নালা-নর্দমা। একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায় নগরী। রাস্তাঘাট অপ্রতুল, সংকট রয়েছে গণপরিবহনেরও। সিটি করপোরেশন রাস্তা সংস্কারের পরই তা কেটে ফেলছে ওয়াসা কিংবা পিডিবি।
মূলত সমন্বয়হীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নগরীর ৫৬টি খাল দখল করে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু এসব বিষয়ে সরকার এবং চট্টগ্রামের সেবা সংস্থাগুলো নির্বিকার।
সমন্বিত রূপরেখা ছাড়া কোনো নগরী পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে না। জনগণের অর্থ খরচ করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। যদি মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা না যায় তাহলে চট্টগ্রাম অচিরেই মুমূর্ষ নগরীতে পরিণত হবে। নগরীর মান আরো খারাপ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গরত, সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে আজ রোববার তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা। হাঁটু থেকে বুকসমান পানি উঠেছে বিভিন্ন স্থানে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে বেড়েছে আতঙ্ক। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশ এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্র বৃষ্টি শুরু হয়। ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় মোট ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।








