Site icon CPLUSBD.COM

সম্পত্তির লোভে বাবাকে হাত, পা বেঁধে অপহরণকালে ছেলেসহ আটক ৭

পা বেঁধে অপহরণকালে ছেলেসহ আটক ৭

ছবি সংগৃহিত

সিপ্লাস ডেস্ক: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়াপাড়া গ্রামে সম্পত্তির লোভে মোস্তফা রাশেদ (৫০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে রাতের আঁধারে হাত, পা বেঁধে মাইক্রোবাস যোগে অপহরণের সময় ছেলেসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‍তিনি বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে সার্জেন্ট পদে চাকরি করতেন।

সোমবার রাত ১২ দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, বড় ছেলে খালেদ মাহমুদ (২৫), রাজশাহী জেলার বোয়ালমারি উপজেলার বালিয়া পুকুর গ্রামের মোসাদ্দেকুর রহমান (৩৬), একই উপজেলার কয়েরদাড়া বিলপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৩৬), একই জেলার কাশিয়াডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ অলি (৪২) এবং পাবনা জেলা সদরের পৈলানপুর গ্রামের নোমান আরাফাত (২৫), ছাতিয়ানপুর গ্রামের আজিজুর রহমান সুমন (৪৪) ও লস্করপুর গ্রামের মাইক্রোবাসেরচালক মানিক শেখ (৩২)।

মোস্তফা রাশেদ জানান, ২০১৫ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছি। দুই বছর ধরে তার স্ত্রী ও বড় ছেলে খালেদ মাহমুদের সঙ্গে তার সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলে আসছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হুমকি ও মানসিকভাবে অত্যাচার, নির্যাতন শুরু করলে দুই মাস আগে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়াপাড়া গ্রামে ৩ শতক জমির উপর ৫ কক্ষ বিশিষ্ট বসতবাড়ি ক্রয় করি। সেখানে এক কক্ষে নিজে থাকেন অপর ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দিয়েছি। বর্তমানে সিএনজি চালিত অটোটেম্পু চালিয়ে জীবনধারণ করি।

তিনি আরও বলেন, বাংলালিংক কোম্পানি থেকে আপনার গিফট এসেছে সি-ব্লক এলাকায় এসে নিয়ে যান। কিন্তু সময় না পাওয়ায় তিনি যেতে পারেননি। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই নম্বর থেকে ফোন করে মাঝিড়াপাড়া স্ট্যান্ড থেকে গিফট নিয়ে যেতে বললে মাঝিড়াপাড়া স্ট্যান্ডে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর রাত ১২ টার দিকে আবারও ফোন করে তাকে বলা হয়, গিফট নিয়ে আপনার বাসায় আসছি। এ কথা বলার পরপরই তার ছেলে খালেদ মাহমুদসহ ৬-৭ জন জোরপূর্বক বাসায় ঢুকে তাকে রশি দিয়ে হাত,পা বেঁধে কোলে করে রাস্তায় নিয়ে এসে মাইক্রোবাসে তোলেন। এ সময় ছাত্রাবাসের ছেলেরা এগিয়ে এসে মাইক্রোবাস আটকে দিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেন। এরপর সন্দেহ হলে ছাত্রাবাসের ছেলেরা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে টহল পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং ৭ জনকে আটক করেন।

তিনি আরও জানান, তাকে অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুম করে তার সম্পত্তি গ্রাস করা পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মোস্তফা রাশেদের স্ত্রী আনিছা বেগম জানান, তার স্বামী একজন মানসিক রোগী। তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য পাবনা জেলা সদরের মাসুমবাজার এলাকার আলোর পথ মানসিক মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য বড় ছেলে খালেদ মাহমুদ নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনের সহায়তায় তাকে নিয়ে যেতে এসেছিলেন।

এদিকে আলোর পথ মানসিক মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক আলভি আদনান জানান, রোগীকে নিতে এসে তার লোকজন ফেঁসে গেছেন।’

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্রাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে অপহরণের পূর্ব মূহূর্তে মাইক্রোবাসের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ছেলেসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে মামলা দায়ের শেষে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। (সুত্র: আমাদের সময়)