সংযুক্ত আরব আমিরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষ্যে আয়োজিত গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে চট্টগ্রামের ও নোয়াখালীর তিনজন খেলোয়াড় দারুণ সাড়া ফেলেছে। তাদের নৈপুণ্যে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের ম্যাচ গুলো দেখতে দর্শকদের আগ্রহ বেড়ে চলেছে।
এ গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাইরের খেলোয়ারদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র যেসব প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমিরাতের রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে অবস্থান করছে তারাই এই টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য হবে। বিধি নিষেদের কারণে তারকা প্লেয়ারের অংশগ্রহণ এই টুর্নামেন্টে না থাকলেও কয়েকজন প্লেয়ারের অসাধারণ নৈপুণ্য প্রবাসীদের দ্বারুন মুগ্ধ করেছে। নৈপূন্যের কারণে প্রবাসী কয়েকজন খেলোয়ার রীতিমত তারকা বনে গেছেন দর্শকদের কাছে। আয়োজকদের দাবী টুর্নামেন্টের শুরুতে স্টেডিয়াম গুলোতে দর্শকদের উপস্থিতি কম থাকলেও প্রবাসী কয়েকজন তারকা প্লেয়ারের কারণে ধীরে ধীরে টুর্নামেন্টের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বেড়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম পর্ব ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দুবাই আল আবির স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার-ফাইনালের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। এই কোয়ার্টার-ফাইনালে প্রবাস থেকে উঠে আসা তারকাদের নৈপুণ্য দেখতে পাবে প্রবাসী দর্শকরা। যারা এতদিন খেলা দেখতে মাঠে যাইনি তাদেরও প্রচুর আগ্রহ বেড়েছে তারকাদের নৈপুণ্য দেখতে। তাই আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আগামী খেলাগুলো উত্তেজনায় পরিপূর্ণ, প্রবাসী তারকা প্লেয়ারের নৈপুণ্যে ভরা, প্রচুর দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠ পরিপূর্ণ থাকবে বলে ধারণা করছেন অায়োজকরা।
টুর্ণামেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিন জন তারকা প্লেয়ারের দেখা পায় সাংবাদিকরা। তারা হলেন আবুধাবি কমিউনিটি টিমের আক্রমণভাগের প্লেয়ার সাইফ আলম,রক্ষণভাগের প্লেয়ার শাহিন মোহাম্মদ। এই দুজন প্লেয়ার আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুলের ছাত্র। বাংলাদেশে তাদের গ্রামের বাড়ী চট্টগ্রামের রাউজান থানায়।
মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে আক্রমণভাগের প্লেয়ার সাঈদ আলম ইতিমধ্যে নৈপুন্য দেখানোর পাশা পাশি দুটি গোল করেছেন। আর রক্ষণভাগে দারুন নৈপুণ্য দেখিয়েছেন শাহীন মোহাম্মদ। অপর এক তারকা প্লেয়ার হচ্ছেন বিডি দুবাই এফসির আক্রমণভাগের প্লেয়ার সুমন দাস অজয়। অজয়ের বাড়ী নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলায়। ইতিমধ্যে সে টুর্নামেন্টের একটি ম্যাচে পাঁচটি গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন। অজয় খেলোয়ার জীবনে নোয়াখালী জেলা টিম, প্রিন্টিং প্রেস ফুটবল টিমে তৃতীয় বিভাগে, বাংলাদেশ ভয়েস টিৃমে দ্বিতীয় বিভাগে, ঢাকা দিলকুশা ক্লাবে প্রথম বিভাগে, ঢাকা বারিধারা ক্লাব থেকে দ্বিতীয় বিভাগের নিয়মিত প্লেয়ার ছিলেন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে প্রবাস থেকে উঠে আসা এই সব তারকা প্লেয়ারদের জাতীয় টিমে সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রবাসীরা দাবি জানান।
এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দুবাইয়ে বাংলাদেশ নিযুক্ত কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খান বলেন মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের আয়োজন ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার, আমরা এখন ধীরতার সাথে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা থাকলে এই টুর্নামেন্ট হবে ইতিহাসের একটি স্মরণীয় টুর্নামেন্ট।তিনি টুর্নামেন্টের বাকি খেলাগুলোতে পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন আগামী ম্যাচগুলোতে খেলাধুলার পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রবাসী দর্শকদের জন্য। সুন্দরভাবে ছুটির দিনে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো উপভোগ করার জন্য দর্শকদের গাড়ির ব্যবস্থা সহ নানারকম সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফেসবুক এবং ইউটিউবে সরাসরি ম্যাচগুলো সম্প্রচার করা হচ্ছে।যারা এই টুর্নামেন্টের সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে যথাযথ মুল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রবাসীদের সৃজনশীল, সুন্দর ও সুস্থ ভাবে জীবন যাপনের আগ্রহ তৈরি হবে। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খান অারো বলেন এই গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচে ১০৭ গ্রামের গোল্ডকাপ সহ বিজয়ী দলকে সম পরিমান প্রাইজমানি দেয়া হবে। তাছাড়া এ আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে । আগামী ২০ মার্চ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দুবাই অফিসার্স ক্লাব ফুটবল স্টেডিয়ামে। সামনের খেলাগুলোতে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি দুবাইয়ে নিযুক্ত কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খান অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সমিতি দুবাইয়ের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সবুর,বাংলাদেশ সমিতি সারজার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল গনি চৌধুরী, কমিউনিটি নেতা শওকত আকবর, হাজী শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, কাচা উদ্দিন কাচা ও মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








