নিউজটি শেয়ার করুন

সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারা-বাঁশখালীর জেলেদের বিরোধ: দুই উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্ততায় সমঝোতা

ছবি:সমঝোতা বৈঠকের ছবি

আনোয়ারা প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার জেলেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে দুই উপজেলার প্রশাসনের মধস্ততায় সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ আগস্ট) এগারটায় আনোয়ারা উপজেলার  একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই উপজেলার বিরোধে জড়িয়ে পড়া জেলেরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হল প্রতিটি জালের দুরত্ব হবে তিন মিটার, তের জনের বেশি জাল বসাতে পারবেনা, আগামী নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখ দুই উপজেলার এসিল্যান্ড,মৎস্য অফিসার, এ এসপি আনোয়ারা সার্কেল উভয় উপজেলা ৫ জন করে মৎস্য প্রতিনিধি নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শণের মাধ্যমে প্রত্যেকের জায়গা বুঝিয়ে দিবে।

এছড়া গত ৩ আগস্ট দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাগরে নিখোঁজ হয়ে মৃত্যু হওয়া জেলে নাছিরের  পরিবারের দায়ের করা মামলার বিষয়ে উভয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও এ এস পি আনোয়ারা সার্কেল বসে একটি আপোষ মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়।  উচ্ছেদ হওয়া আনোয়ারার তিনটি আর বাঁশখালীর চারটিসহ মোট সাতটি নৌকা আগের মত যথাস্থানে বসানো যাবে।

সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যানন ছৌধুরী মোহাম্মদ গালিব, আনোয়ারার ইউএনও শেখ জোবায়ের আহমদ, বাঁশখালীর ইউএনও সাইদুজ্জামান চৌধুরী, আনোয়ারা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) তানভীর হাসান চৌধুরী, বাঁশখালীর মাজহারুল ইসলাম,এ এসপি (আনোয়ারা সার্কেল) হুমায়ুন কবির, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রশিদুল হক, উম্মুল ফারাহ বেগম তাসকিয়া, আনোয়ারা থানার ওসি এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার, বাঁশখালীর ওসি  শফিউল আলম, নৌ পুলিশ কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন, রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জানে আলম, বাঁশখালীর বদরুদ্দিন, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিজ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট দুপুরে আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার জেলেদের মধ্যে সাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে মাছ ধরার একটি নৌকা ডুবে গিয়ে নাছির নামে বাঁশখালীর একজন জেলের মৃত্যু হয়। পরে নিহত নাছিরের  পরিবারের লোক বাদী হয়ে আনোয়ারার ১১ জেলেকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জোবায়ের আহমদ বলেন, আমরা দুই উপজেলার প্রশাসন একসাথে বসেছি। উভয় পক্ষের বক্তব্য  শুনে তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারাই সাগরে বিশ্চৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গওহণ করবে। এ ক্ষেত্রে কারো অজুহাত আমলে নেয়া হবেনা। মামলার বিষয়টা তদন্তাধীন রয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ ধরতে কাউকে ট্যাক্স দিতে হয়না। এখানে মারামারি,ঝগড়া,বিবাগ কেন করা হবে।  আজকের বৈঠকে দুই উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের জন প্রতিনিধি ,প্রশাসেনর কর্মকর্তারা উপস্থি আছেন। আজকের সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here