লোহাগাড়া প্রতিনিধি: সাতকানিয়ায় ত্রাণের তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ যুবকের দায়ের কোপে আহত কাঞ্চনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইছহাকের ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের নাম মো. জসিম উদ্দিন। মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ মে সোমবার নিহতের বাবা মো. ইছহাক বাদী হয়ে অভিযুক্ত খলিলুর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো. লিটন (৩২), মো. রাসেল (২৩), আবুল কালাম (২৮), মো. পারভেজ (৩৭), মো. আলম (৩২), মঙ্গল চান (৫৫), নুরুল আলম (৫৮), মোক্তার আহমদ (৪০) এবং নুরুল আমিন (৫২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গত সপ্তাহে করোনাকালীন কাঞ্চনা ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলীর ব্যক্তিগত তহবিল হতে এলাকার অসহায় দুস্থ গরিবদের জন্য কিছু ত্রাণসামগ্রী কাঞ্চনার ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইছহাককে বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয়।
ইউপি সদস্য এলাকার দুস্থদের তালিকা তৈরি করে ওই ওয়ার্ডের অসহায় ৭০ জনকে এগুলো বিতরণ করেন।
তালিকায় নাম না থাকায় ত্রাণ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে খলিলুর রহমান খইল্যা (৩৫) চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের নাম ধরে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করতে থাকে।
বিষয়টি ইউপি সদস্য ইছহাকের কানে আসলে তিনি স্থানীয় বাজারে গিয়ে বখাটে খলিলুর রহমান ওরফে খইল্যাকে ডেকে বকাবকি করেন এবং দুয়েকটি চড়-থাপ্পড় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে খইল্যা ইছহাকের পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। গত শনিবার আমিরাবাদ বাজার হতে গরুর মাংস নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে বাড়ি ফেরার সময় সৈয়দ বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছলে সেখানে ওতপেতে থাকা খইল্যা ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা নিহত জসিমের গতিরোধ করে ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে জসিম গুরুতর আহত হলে লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চট্টগ্রাম মেডেকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে জসিম মারা যান।
কাঞ্চনা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রমজান আলী বলেন, খলিল একজন মাদকাসক্ত। তাকে সংশোধনাগারেও পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পরও মাদক নিয়ে তার কারবার চলছে। এসবে বাধা দেওয়া নিয়ে ইউপি সদস্য ইছহাকের সঙ্গে পূর্ববিরোধ ছিল তার। এর জের ধরেই মূলত ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পূর্ববিরোধের জের ধরেই নিহত জসিমের ওপর হামলা হয়েছিল। ঘটনার দিনই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। তবে ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবার গা-ঢাকা দেওয়ায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সময় লাগছে। পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে, আশা করছি অতিশীঘ্রই তারা ধরা পড়বে।








