নিউজটি শেয়ার করুন

সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হচ্ছে নতুন মামলা

সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে তাকে

সিপ্লাস ডেস্ক: পাঁচ বছর আগে মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হচ্ছে। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি দায়ের করার কথা রয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হবে তাকে।

মামলার বাদী হচ্ছেন শ্বশুর সাবেক ওসি মোশাররফ হোসেন। তিনি এখন অবস্থান করছেন চট্টগ্রামে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বাবুল আক্তারকেই মামলার প্রধান আসামি করা হবে। মামলার এজাহারে তাকে স্ত্রী হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হবে। আগের মামলার আসামিদেরকে নতুন মামলায় হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হবে।

সূত্র জানায়, বাবুল কেন তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে জানতে আজ (বুধবার) তাকে আদালতে তোলা হবে। আদালতে সোপর্দ করে তাকে রিমান্ড বা জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে।

বুধবার (১২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, আজই বাবুল আক্তার বাদী হয়ে মিতু হত্যা মামলায় যে মামলাটি দায়ের করেছিলেন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করবে পিবিআই। এরপর পাঁচলাইশ থানায় যে মামলা দায়ের হবে সে মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানাবে।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন, মঙ্গলবার মিতু হত্যা মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআইতে ডাকা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই স্ত্রী হত্যায় বাবুলের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্তকারী দল। তাই তাকে পিবিআই হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলার তদন্তের বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মাহমুদা খানম মিতুকে। এ ঘটনায় ঢাকায় অবস্থান করা মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে নিজের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে কয়েক দিনের মাথায় মামলার তদন্তে নতুন মোড় নেয়। এক পর্যায়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার শ্বশুর মোশারফ হোসেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, আলোচিত এই মামলাটি প্রথমে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ও চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্তে নেমে প্রথমবারের মতো মামলার বাদী ও সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলছে। কয়েকদিন আগে নিহত মিতুর বাবার সঙ্গেও পিবিআইয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কথা বলেন বলে জানিয়েছে ওই সূত্র।

আলোচিত এই হত্যা মামলা নিয়ে নানা নাটকীয়তার মধ্যে দিয়ে বাবুল আক্তারকে পুলিশ সুপারের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বাবুল আক্তার স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন বলা হলেও তিনি পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছিলেন। পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর তিনি প্রথমে কিছুদিন রাজধানীর আদ্বদীন হাসপাতালে চাকরি করলেও বর্তমানে ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে।