নিউজটি শেয়ার করুন

সামাজিক বৈঠকে সমঝোতার চেষ্টা: ফটিকছড়িতে কিশোর-কিশোরীর প্রেম অতঃপর সন্তান প্রসব

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অষ্টম শ্রেণীর মাদ্রাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীর বিয়ে পূর্ব সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সুত্র জানায় , উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ফটিকছড়ি জামেউল উলুম সিনিয়র মাদ্রসার অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীর  সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মুহাম্মদ ইমরান কাদের (১৬)।

ইমরান কাদের ওই ইউনিয়নের টাইগার ক্লাব এলাকার মোখলেছুর রহমান বাড়ীর প্রবাসী মোঃ হারুনের পুত্র ।

অভিযুক্ত ইমরান বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সাথে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে গত ৯ অক্টোবর মেয়েটি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে চাঞ্চল্য কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

গত ২০ অক্টোবর এ নিয়ে সামাজিক ভাবে দু’পক্ষের ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ ঘটনাটি স্বীকার করে।

এর পরেও ছেলে পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় মেয়ের পক্ষকে টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মেয়েটির পরিবার দাবী করে।

সরেজমিনে মেয়েটির পরিবারে গেলে তার পরিবার জানায়, ছেলেপক্ষের কিছু প্রভাবশলী ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। আমরা গরীব হতে পারি , আমাদের তো একটা মানসম্মান আছে। আমাদের মেয়ের এত বড় একটা সর্বনাশ করেছে কোটি টাকা দিলেও আমরা সমঝোতা করব না। আমাদের দাবী মেয়েকে সামাজিক ভাবে ঘরে তুলে নিতে হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান কাদেরের বাড়ীতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘরে তার মা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তার মা একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলেন, এটা আমার ভাইয়ের নাম্বার। তিনি বৈঠকে ছিলেন। তিনি সবকিছু জানেন। কিছু জানতে চাইলে তার কাজ থেকে জেনে নিবেন।

কিন্তু স্থানীয় বিবিরহাট বাজারে গিয়ে ওই ভাইয়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি তার মামা নই, আমি তার এলাকার একজন বাসিন্দা ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান মেম্বার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি একটি জঘন্য অপরাধ বলে আমি মনে করি। দু’জনেই অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি পক্ষ অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে বলে আমিও শুনেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিলরুবা আকতার বলেন, ঘটনাটির ব্যাপারে আমি অবগত নই, তবে দু’জনই যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক তাতে আইনি জটিলতা আছে। এতে আদালতের মামলা করতে হবে। আদালত যা সিদ্ধান্ত দেয়।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আকতার বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে কেউ এখনো কোনো অভিযোগ দেয়নি , অভিযোগ বা মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।