নিউজটি শেয়ার করুন

সাহেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভুক্তভোগীদের ২০ মামলা ঢাকায়

সাহেদ। ফাইল ছবি

সিপ্লাস ডেস্ক: রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ২০টি মামলা করেছেন, যার বেশিরভাগই প্রতারণার মামলা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মলনে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি নিয়ে যে মামলাটি র‌্যাব করেছিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেটা বুধবারই র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সাহেদকেও তুলে দেওয়া হবে তাদের হাতে।

প্রতারণার অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে আগেও অন্তত ৫৬টি মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগীরা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় হওয়া এসব মামলার তথ্য-প্রমাণ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আছে।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়ার পর গত ৭ ও ৮ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

র‌্যাবের ওই অভিযানের পর রিজেন্ট মালিক সাহেদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর সংবাদমাধ্যমে আসতে শুরু করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কীভাবে তিনি নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন, সেসব তথ্যও এখন গণমাধ্যমে আসছে।

রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর ৭ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করে র‌্যাব। শুরুতে মামলাটি থানা পুলিশের হাতে থাকলেও পরে তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে।

এরপর গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেদিনই তাকে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন গোয়েন্দা পুলিশ সাহেদকে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি পায়। বুধবার সেই রিমান্ডের পঞ্চম দিন চলছে।

এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়ায় তাদের হাতেই সাহেদকে তুলে দিচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেপ্তারের সময় সাহেদের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকায় সাতক্ষীরায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। পরে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় সাহেদকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তার একটি গাড়ি থেকে পিস্তল, ফেনসিডিল ও মদ উদ্ধার করার কথা জানায় গোয়েন্দা পুলিশ।

অতিরিক্ত কমিশনার বাতেন বলেন, “মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলাগুলো গোয়েন্দা পুলিশই তদন্ত করবে। তাছাড়া ভুক্তভোগীদের করা ২০টি মামলারও তদারকি করবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাহেদের নামে বৈধ অস্ত্রও আছে। তবে বৈধ অস্ত্র দিয়ে অপরাধ করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ কারণে সে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে।”

আর মাদক উদ্ধারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাতেন বলেন, “সে মাদকের ব্যবসা করত- এমন কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে সে নিজে সেবন করতে পারে।”

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১৮ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় যে দুটো মামলা হয়েছে, দ্রুতই সেগুলোতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানানো হয় গোয়েন্দা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে।