চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকায় ছয় বছর আগে জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামি অজিত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বোয়ালখালী উপজেলার ধোরলা গ্রামের বাড়ি থেকে মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক বদরুল কবীর।
তিনি বলেন, “আগে গ্রেপ্তার হয়ে অজিত উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়েছিল। পরে সে আর নিম্ন আদালতে হাজির হয়নি।”
২০১৩ সালের ২৪ জুন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি এলাকায় ৪৮ লাখ টাকার কাজের দরপত্র নিয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক সাইফুল আলম লিমনের অনুসারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সাজু পালিত (২৪) ও স্থানীয় সিআরবি বস্তির শিশু আরমান (৮)। এদের মধ্যে সাজু পালিত ছিলেন বাবরের অনুসারী।
ঘটনার পর এসআই মহিবুর রহমান বাদী হয়ে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিলেন তাতে ৭৮ নম্বরে ছিল অজিতের নাম। মামলার আসামিরা সবাই ছিলেন যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
ঘটনার এক মাস পরে যুবলীগকর্মী সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত বাদী হয়ে অজিতকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা করেন।
জোড়া খুনের বিষয়ে পুলিশ ও সাজু পালিতের মায়ের করা মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
দুই দফা তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর প্রথম অভিযোগপত্র জমা দিয়েছির গোয়েন্দা পুলিশ। ওই অভিযোগপত্রে ৬২ জনকে আসামি এবং ৩৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে ‘অধিক গুরুত্বে সঙ্গে’ তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পিবিআই দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র জমা দেয়। যাতে অভিযোগপত্রে ৬৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ১৭ জনকে।
পিবিআইর দেওয়া অভিযোগপত্রে অজিত বিশ্বাসকে এক এবং সাইফুল আলম লিমনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, অজিত বিশ্বাসের গুলিতেই সেদিন দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। আগের বিভিন্ন দরপত্রের ভাগের টাকা পাওনা থাকায় সাজু পালিত ও অজিত বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
“ঘটনার দিন সিআরবি সাত রাস্তার মাথায় একটি টং দোকানে পুরি খাচ্ছিল সাজু। পাওনা টাকার জন্য সেখানে উপস্থিত অজিত বিশ্বাসকে গালাগালি করে সাজু। এসময় অজিত কোমরে থাকা অবৈধ পিস্তল বের করে সাজুর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।”
তখন লিমনের অনুসারীরা এগিয়ে গেলে অজিত এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং আরমান নিহত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।








