নিউজটি শেয়ার করুন

সিআরবি চট্টগ্রামবাসীর নাকি?- রেলের ডিজির এমন প্রশ্নের তীব্র প্রতিক্রিয়া(ভিডিও)

রেলের ডিজির এমন প্রশ্নের তীব্র প্রতিক্রিয়া(ভিডিও)

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের মানুষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার। তিনি সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদকারীদের বাইরের লোক বলে অভিহিত করেছেন।

সিআরবি রক্ষার আন্দোলনকে ‘গুরুত্বহীন’ উল্লেখ তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বাসিন্দারা কি সিআরবি’র মালিক? কেউ বাঁধা সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে জানানোর হুশিয়ারি দেন তিনি।

এসব বিষয়ের ধারাবাহিকতায় রেলের ডিজি’র মতামত জানতে সিপ্লাস টিভি ও সিপ্লাসবিডি.নেট এর এডিটর ইন চীফ আলমগীর অপু বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারের সাথে আজ বুধবার টেলিফোনে যোগাযোগ করেন।

টেলিফোনে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে রেলের ডিজি ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, ‘সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে সরকারকে জানাবো। এটা কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার না। সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল হবে। এতে বাইরের কেউ বাধা দেয়ার অথরিটি নেই।’

সিআরবি রক্ষার আন্দোলনকে গুরুত্বহীন মন্তব্য করা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজির এমন বক্তব্যে ফুঁসে উঠেছে চট্টগ্রামবাসী। বিষয়টি নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে নাগরিক সমাজ,চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল বলেন, ডিজি সাহেব যেভাবে কথাটি বলেছেন আমার থেকে মনে হচ্ছে তিনি চট্টগ্রামকে চেনেন না, আমাদের চট্টগ্রামের মানুষকে তিনি যেভাবে অপমান করেছে, অবমূল্যায়ন করেছে আইনের আওতায় আনবে বলেছে আমরা ওনাকে একটা কথা জানাতে চাই যে এই কথাগুলো ওনাকে প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি আমাদের কি ভাবে ভয় লাগিয়েছেন আমি বুঝতে পারছি না চট্টগ্রামে মানুষ ভীতু নয়। আমরা ওনাকে সাবধান করছি এর শব্দ চয়ন এর ভাষাগুলো যে সুন্দর করে ব্যবহার করে। এবং একজন দায়িত্বশীল কড়মকর্তার মত কথা বলেন।যদি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মত আচরণ না করে তাহলে আমাদের আচরনও কোন ভাবে ছাড় দিয়ে কথা বলব না। আমরা ভয় পাওয়া মানুষ না আমরা দীর্ঘ দিন আন্দোলন সংগ্রাম করা মানুষ। সিআরবি কোন ক্রমেই এখানে কোন ভাবে হাসপাতাল হতে পারবে না।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি বলেন,রেলওয়ের ডিজি দাবি সিআরবির মালিক কি চট্টগ্রামের জনগণ কি না?চট্টগ্রামের জনগণ তো কখনো সিআরবির মালিকানা দাবি করেনি।চট্টগ্রামের মানুষের দাবী হল চট্টগ্রামে জনসাধারণ চাইছে চট্টগ্রামের মধ্যে একটি উন্নত মানের হাসপাতাল হোক। সুতরাং মনে রাখবেন এটা চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামে জনগন যদি আন্দোলন করে তাহলে চট্টগ্রাম থেকে কেউ অক্ষত অবস্থায় যেতে পারে না। আমি মনে রাখবেন, ইতিহাস ভুলে যাবেন না। অনেক অনেক ক্ষমতাবান রাষ্টপতি দেখেছি চট্টগ্রাম মানুষের আন্দোলনের মুখে পাছার কাপড় রেখে পালিয়েছে। সুতরাং চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মানুষকে সারা বাংলাদেশ চিনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরকে ভূল উপস্থাপন করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই ওদের ধান্দা আছে বলে এমন উঠেমপড়ে গেলেছে। সুতারল সাবধান হয়ে যাওয়া আহবান করছি সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান।

মানবাধিকার নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারুল জানান, আপনি সিআরবিকে হাসপাতাল বানানোর জন্য, ব্যবসা করার জন্য বা ফাইভ স্টার হোটেল বানানোর জন্য বা কি করার জন্য নাসিং হোম করা জন্য আমাদের সিআরবি আপনাকে দিতে পারব না। আপনি চট্টগ্রামের মানুষকে এখনো চিনেন নি। মুখে যা আসে তা বলা শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু এখনো আসল ঘটনা জানে না। কি সুন্দর কথা গুরুত্ব দিব না। আমার বাসায় ঢুকে আমার থেকে জিজ্ঞেস করেন আমি কে? আমি কে আপনি জানেন না? আমাদের চিনেন না? চট্টগ্রামে মানুষকে চিনেন না? চিনবেন আস্তে আস্তে চিনবেন! আপনার এই অশালিন আচরণ চট্টগ্রামে মানুষ না বাংলাদেশের মানুষ ও সহ্য করবে না। আর জীবনের ওহ প্রশ্ন করবেন না সিআরবি কার নিসন্দেহে সিআরবি আমাদের।

কেন্দ্রীয় যুবলীগ সাবেক সদস্য দেবাশীষ পাল দেবু বলেন,এরা হলো বেতন ভোগী কর্মচারী,তারা আজকে সিআরবি জায়গাটাকে নিয়ে যে ধরনের অর্ধপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে এটা আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি ঢাকায় বসে সরকারি বেতন নিবে জনগনের টেক্সরের থেকে যে বেতন পাবে তা দিয়ে বড় বড় কথা বলবে,মানুষের আবেগ অনূভুতি বুঝতে চেষ্টা করবে না এ বিষয় গুলো যে তারা আমলে নিবে ভবিষ্যতে বক্তব্য দেয় সেই বিষয়ে আহবান করছি। সিআরবিতে সবুজের ক্ষতি হবে, এটার কোন ধরনের ক্ষতি সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে না এবং হাসপাতাল দরকার হলে অন্য স্থানে করা যাবে। আমরা আশা করব রেলওয়ে কতৃপক্ষে তার বক্তব্য থেকে সরে আসবে।আর সরে না আসলে চট্টগ্রামের জনগণের জনরুসের শিকার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।

মানবাধিকার নেতা এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জানান, জিএম বলেন তারা হাসপাতাল করবে কিন্তু সিডিএর গ্রজেট নোটিফিকেশন আইনে বলছে এ জায়গাটা সংরক্ষিত এলাকা এখনে লোন অবকাঠামো হবে না। এটি সিআবিতে কেন চট্টগ্রামে কি জায়গায়র অভাব হয়েছে। পতেঙ্গায় একটি হাসপাতাল নেই। উওর চট্টগ্রামে বড় কোন হাসপাতাল নেই। আমরা তো হাসপাতালে বিরোধিতা করি না। সিআরবিতে হাসপাতাল হলে পরিবেশ ক্ষতি হবে ধংস হয়ে যাবে।

মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু,আমি জানি না জিডি সাহেবের সাথে কি রকম ইন্টারনাল সম্পর্ক আছে যার কারণে ওনি এত উঠে পড়ে লেগেছে হাসপাতাল তৈরির জন্য। এর আগে ও চট্টগ্রামের মানুষকে এড়িয়ে অনেক কিছু হতে চেয়েছিল তবে এড়িয়ে গিয়ে কিন্তু কিছু করা সম্ভব হয়নি। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময় এস এস পোর্ট ফিরে গিয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষ চট্টগ্রামে স্বার্থ দিয়ে ঐক্যবদ্ধ।

মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর জানান, আমাদের দাবি সিআরবির পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে রেলের অন্য কোন জায়গায় হাসাপাতাল নির্মান করা হোক।সিআরবির পরিবেশ অতুলনীয়। চট্টগ্রামে হাসপাতালের দরকার আছে তবে আমাদের কাছে হাসপাতাল নির্মান করতে অন্য অপশন আছে।যেহেতু চট্টগ্রাম রেলওয়ের আরো জায়গা আছে।

বিস্তারিত ভিডিওতে…