নিউজটি শেয়ার করুন

সিনহা হত্যার আসামি পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকতের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে আরেক মামলা

সিপ্লাস ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যামামলার আসামি পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলির বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে’ অর্থ আদায়ের অভিযোগে চট্টগ্রামে একটি মামলা হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মো. নোমানের আদালতে নালিশি অভিযোগটি করেন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন।

এতে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়, মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

লিয়াকতসহ নয় ‍পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি অভিযোগটি করেছেন চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী।

এরমধ্যে লিয়াকত, অন্য দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত কক্সবাজারের টেকনাফে তল্লাশি চৌকিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন।

চট্টগ্রামের মামলাটি হয়েছে ২০১৪ সালের ঘটনায়, তখন লিয়াকত চট্টগ্রাম ডিবিতে এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাদীর আইনজীবী জুয়েল দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৩ জনের বিরুদ্ধে নালিশি অভিযোগ করেছি।

“আদালত অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করতে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনারকে (উত্তর) নির্দেশ দিয়েছেন।”

২০১৪ সালের ১৪ জুন এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

যে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে লিয়াকত ছাড়া অন্যরা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তৎকালীন দুই এসআই নজরুল ও হান্নান, বাদীর ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম সাহাবুদ্দীন, বিষ্ণুপদ পালিত, কাজল কান্তি বৈদ্য ও জিয়াউর রহমান।

অন্য যে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তারা হলেন- ডিবি’র সেসময়ের এসআই সন্তোষ কুমার, এসআই কামরুল, সেসময়ে সদরঘাট থানার এসআই তালাত মাহমুদ, ওসি প্রণব চৌধুরী, দাউদকান্দি থানার মর্জিনা বেগম (বর্তমানে উখিয়া থানার ওসি) এবং গোয়েন্দা পুলিশের সেসময়ের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার।

অভিযোগকারী জসিম উদ্দীন (৫৫) নগরীর পতেঙ্গা চরপাড়া মোড় এলাকার মৃত নেকবর আলী সিকদারের ছেলে। নগরীর সাগরিকা বিসিক এলাকায় তার সূচনা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

জসিম উদ্দীন বলেন, “আমরা প্রতিষ্ঠানে চুরি ও লুঠতরাজের ঘটনায় একটি মামলা করেছিলাম। সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ছিলেন লিয়াকত আলি। ওই মামলার তদন্তের জন্য আমার কাছ থেকে এসআই লিয়াকত ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল।

“মামলাটির জন্য ২০১৪ সালের ১৪ জুন সকালে আমাকে ডিবি অফিসে ডাকা হয়। সেখানে গেলে আপস করার প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় উল্টো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। তাতেও রাজি না হওয়ায় আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে।”

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জসিম উদ্দীন বলেন, “এরপর পতেঙ্গা থানায় নিয়ে আমাকে আটকে রাখে। দাউদকান্দি থানার একটি নারী নির্যাতন মামলার ভুয়া ওয়ারেন্ট দেখিয়ে আটকে রাখা হয়। আমার ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী সাহাবুদ্দীনের খালাত বোন সেই মামলার বাদী।

“পতেঙ্গা থানার ওসি যাচাই করে জানতে পারেন যে ওই মামলায় আমার নামে কোনো ওয়ারেন্ট নেই। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দেন। বিকেল ৪টায় থানার কম্পাউন্ড থেকেই এসআই লিয়াকত আমাকে আবার আটক করে। তখন বলে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে দিবে।”

‘প্রাণভয়ে’ দুই লাখ টাকা দেন দাবি করে জসিম বলেন, “টাকা দেওয়ার পরেও আমাকে ছাড়ে নাই। সদরঘাট থানায় সাহাবুদ্দীন একটি চাঁদাবাজির মামলা করে। সেটাতে আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সদরঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

“সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন করে পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। এরপর একদিন রিমান্ডেও নেয়। ১৯ দিন জেল খেটে জামিনে বের হই।”

জসিম উদ্দীন জানান, নিজের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তার করা চুরির মামলাটিতে ডিবি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে তিনি নারাজি আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়। পরে চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়।

সেই চারজনকে বুধবার করা নালিশি অভিযোগে আসামি করেছেন জসিম ‍উদ্দীন।

তিনি বলেন, “দাউদকান্দি থানার মামলায় ভুয়া ওয়ারেন্টে আমাকে আসামি দেখানোর ঘটনায় সেই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। এতে প্রমাণ হয় তারা আমাকে মিথ্যে অভিযোগে ফাঁসিয়েছিল।”