নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী বহরদার বাড়ির পারিবারিক মিলনমেলায় উচ্ছাসের প্রাণ স্পন্দন

কামরুল ইসলাম দুলু, সীতাকুন্ড: সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা পরিবারের সদস্যরা ভাগাভাগি করে নিত একে অপরের সঙ্গে। একটা সময় পর্যন্ত গর্ব করার মতো অনেক কিছুই ছিল আমাদের এই পারিবারিক ব্যবস্থায়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বন্ধন, সামাজিকতা আর আনন্দের এই উৎসস্থলের কার্যকারিতা। পারিবারিক বন্ধন আমাদের গর্ব, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পারিবারিক শিক্ষার শক্ত ভিক্তির উপর দাঁড়িয়ে ছিল আমাদের এই সমাজ, পরিবারের মঙ্গলের জন্য জীবনের সবটা সময় নিবেদিত করেছিলেন মা-বাবা, তাদেরও।

কালের পরিক্রমায় এই বন্ধন আজ হুমকির সন্মুখীন, ভেঙ্গে যাচ্ছে পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, ধুঁকছে সমাজ। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে ফিরে আসুক পুরানো সেই পারিবারিক সম্প্রীতির বন্ধন। সেই লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হল সীতাকুণ্ড উপজেলার, ১০ নং ছলিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বহরদার বাড়ীর পারিবারিক মিলন মেলা।

বহরদারবাড়ী কল্যাণ ষ্ট্রাস্ট কৃর্তক আয়োজিত শুক্রবার সমুদ্র উপকুলে অনুষ্টিত দিনব্যাপী উক্ত মিলন মেলায় প্রায় ১০০ টি পরিবারের ৭০০ শত জন মানুষ অংশ নেন। ঐতিহ্যবাহী বহরদার বাড়ী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যেগে ৯ বছর ধরে আয়োজন করে আসছে এই মিলন মেলা। শুক্রবার সকালে কেক কাটার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী নানা আয়োজন।

গুণীজন সন্মাননা, মহিলাদের জন্য মিউজিক্যাল পিলো, পুরুষদের জন্য হাড়িভাঙ্গা, বাচ্চাদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিস্কুট দৌড়, যেমন খুশি তেমন সাজো,স্কুল শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরন, রক্তের গ্রুপ পরিক্ষা,চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান,জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং র্যাফেল ড্র। সকল দুঃখ-কষ্ট ভুল দিনব্যাপী আনন্দ-আড্ডা, সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি ও গান-কৌতুকে মুখরিত হয়ে উঠে পারিবারিক মিলনমেলা। সাংস্কৃতিক আয়োজনে নৃত্য-তালের মূর্ছনায় আত্মীয়-স্বজনের আবেগ-উচ্ছাসের প্রাণ স্পন্দন আরো বাড়িয়ে দেয়।

বহরদারবাড়ী কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা কুতুব উদ্দীন আহমদ এফ সি এ বলেন, মানুষে মানুষে ভ্রাক্তিত্বের বন্ধন আরো মজবুদ করতে, সকল হিংসা-বিবাদ দুর করতে প্রতিবছরই আমরা এই মিলন মেলার আয়োজন করে আসছি।

এছাড়া বহরদারবাড়ী কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে আমরা সমাজের বিভিন্ন কল্যাণমূখী কাজগুলোও করে থাকি।