অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ভোগ্যপণ্যে ভরে গেছে সীতাকুণ্ডের হাট-বাজার। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানেও থামছে না ভেজালের কারবার। ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। ভেজাল ও নিম্নমানের ভোগ্যপণ্যে চরম হুমকিতে জনস্বাস্থ্য। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান মাঝে চললেও। কিছুদিন পর অভিযান থেমে যায়। অব্যাহত থাকে ভেজালকারীদের তৎপরতা। কয়েকদিন আগেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় সীতাকুণ্ডের একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানাতে অভিযান চালান।
অভিযানে দেখা গেছে, ভেজাল, নকল, মানহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারী পন্যে, পাউরুটি, বিস্কুট, চনাচুর, জন্মদিন ও গায়ে হলুদের কেক তৈরী করেছে। বেকারীতে তৈরী করা খাদ্যের প্যাকেটে উৎপাদন তারিখ নেই, বিএসটিআই এর কোন লাইসেন্স নাই কিন্তু নকল লোগো ব্যবহার করছে। ফ্রিজে রাখা ডিমগুলো বেশ কয়েকমাস আগে যা নষ্ট হয়ে গেছে। বিস্কুট, কেক ও মিষ্টিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত রং। খাওয়ার অযোগ্য উপকরণে তৈরি হচ্ছে বেকারি সামগ্রী। মানহীন হলুদ, মরিচ, মসলা, বেসনেও ভেজালের মিশ্রণ। মেয়াদোত্তীর্ণ আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, লবণও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। বলতে গেলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যেই জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নানা উপকরণ ও রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল, ফরমালিন-কার্বাইড, সূতা রাঙানোর বিষাক্ত রং, ভেজাল পাম তেল, সেন্ট, পচা ডিম মেশানো হচ্ছে খাদ্যপণ্যে। খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পচা ও বাসি খাবার ফ্রিজে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করে বিক্রি করছে। এ ছাড়াও অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করার পর তা পচা সিরায় ভিজিয়ে রাখা হচ্ছে। নিম্নমানের পাম অয়েল ও পচা ডিম দিয়ে বেকারি পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। হঠাৎ কোন অভিযান চললে তখন বুঝা যায় কি পরিমাণ ভেজাল, নকল, মানহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব খাদ্য তৈরী হচ্চে, এছাড়া ক্রেতা সাধারণের বুঝার উপায় থাকে না। সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্নস্থানে মেয়াদোত্তীর্ণ আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, লবণও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। আম, কলা, পেঁপে, ফলমূল, মাছ, শুঁটকিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নানা উপকরণ ও রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল, ফরমালিন-কার্বাইড, সূতা রাঙানোর বিষাক্ত রং, ভেজাল পাম তেল, সেন্ট, পচা ডিম মেশানো হচ্ছে খাদ্যপণ্যে।
সাহাবউদ্দিন নামে এক যুবক জানালেন, তিনি এক মুদি দোকান থেকে ঘি কিনেছেন, তাতে উৎপাদন তারিখ লিখা আছে ২৪/৩/২০২০ আর উত্তীর্ণ তারিখ লিখা আছে ২৪/৩/২০২১ সাল। অথচ এখন চলছে ২০১৯ সাল। তার প্রশ্ন এই ঘি এর জন্ম কিভাবে হলো। শুধু হোটেল আর বেকারী নয়, মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে রং মিশ্রিত মাছ, বিভিন্ন ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ, ফলের দোকানে ফরমালিনযুক্ত ফল, অনেক রাইস মিলে হলুদের সাথে চনার ডাইল মিক্স করে গুড়া করা হচ্ছে। মরিচের সাথে মিক্স করা হচ্ছে লাল রং। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান মাঝে মাঝে চললেও কোন সময় রাইস মিলগুলোতে যায় না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় বলেন, এ ধরণের অভিযান সারা বছর জুড়েই পরিচালনা করা হয়, জড়িমানা করা হয়, মালিককে না পেলে কারখানা সিলগালাও করে দেওয়া হয়। তারপরএ রোধ করা যাচ্ছেনা। তবুও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হলে রোধ করা সম্ভব।








