নিউজটি শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, বিচারে ধর্ষিতা দন্ডিত

ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় উল্টো এক ঘরে হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার

সীতাকুণ্ডে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ

কামরুল ইসলাম দুলু, সীতাকুণ্ড: ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় উল্টো এক ঘরে হয়েছে ভুক্তভোগী এক পরিবার। গ্রাম সর্দার ধর্ষণের বিচারে ধর্ষিতাকেই দন্ডিত করে সমাজচ্যুত করার ঘটনা ঘটেছে সীতাকুণ্ডের বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের বহরপুর গ্রামে।

২৫ বছরের এক তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ের প্রলােভন দেখিয় গত ৮ আগস্ট সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার এম এম জুট মিল এলাকায় একটি ভাড়া বাসাতে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে একই এলাকার মৃত অলি মিয়ার ছেলে ইকবাল হাসান মানিক (৪৫)। এর পর ওই নারীর সাথে প্রতারণা করে তার পূর্বের স্বামীর দেওয়া তালাকের ৩ লাখ টাকাও আত্নসাৎ করে ইকবাল।

বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করে উল্টো হুমকি দেওয়ায় রোববার বিকালে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলা দায়েরের এক ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত ইকবালকে বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের বহরপুর সাগর উপকূলীয় এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

ধর্ষিতার ভাই রিদােয়ান বলেন, ধর্ষণকারী ও গ্রাম সর্দারের লােকজন আমাদের পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি দেয়। ঘটনার পর গ্রাম সর্দার নুরুল আলম সালিশী বৈঠকে আমাদেে পরিবারকে সমাজচ্যুত করে এক ঘরে করে দেয়। অথচ সালিশে অভিযুক্ত ধর্ষককে উপস্থিতও করেনি। একতরফা আমাদের বিচার করেছেন তিনি। মামলা করলে এলাকা ছাড়তে হবে বলে জানায়। আমরা নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছি। পরে পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ মামলা নিয়ে তাকে আটক করে।

গ্রাম সর্দার নুরুল আলম মুঠােফানে বলেন, যে মেয়ে বিয়ের ছয় মাস সংসার করতে পারেনা সে ভালাে হয় কীভাবে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গতকাল রবিবার দুপুরে ধর্ষিতা ওই নারী তার মা ও ভাইকে নিয়ে থানায় আসেন অভিযোগ দিতে। আমরা অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখি। এরই মধ্যে বিকাল সাড়ে ৪টার সময় অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। সালিশী বিচারের নামে যারা পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করেছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here