ফেনী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এসএসসি পরীক্ষার্থী উর্মি রানী বনিককে প্রতিবেশী যুবক নিতাই চন্দ্র দাস ধর্ষণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই সম্পদ বনিক।
গত বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পশ্চিম চরবাটা গ্রামের শীবচরণ এলাকায় নিহতের নির্জন বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে ।
নিহতের বড় ভাই সম্পদ বনিক অভিযোগ করে বলেন, আমার বোন স্থানীয় হাজী মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী উর্মি রানী বনিকক (১৬)। ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ১২ টার সময় আমাদের প্রতিবেশী মৃত নিকুঞ্জ বিহারী দাসের পুত্র নিতাই চন্দ্র দাস (২০) আমাদের নির্জন বাড়িতে আমার বোন উর্মিকে ঘরে একা পেয়ে প্রথমে সে তার মূখে ওড়না পেঁছিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে গলা টিপে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগকারী সম্পদ বনিক আরো জানান,ঘটনার খবর পেয়ে আমি স্থানীয় শীবচরন মার্কেট থেকে বাড়ীতে গিয়ে দেখি এলাকার লোকজন আমার বোনের লাশ ফাঁসির দড়ি থেকে নামিয়ে রেখেছে। এ সময় তার মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিল এবং আমিসহ উপস্থিত লোকজন তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। তিনি আরো জানান, ঘটনার আগ মূহুর্তে তাদের ঘরের মধ্যে দরজা-জানালা বন্ধ অবস্থায় দাপাদাপির আওয়াজ পাওয়া গেছে বলে তাকে জানিয়েছে তাদের পাশের বাড়ীর ৪র্থ ও ৫র্ম শ্রেনীতে পড়ুয়া দুইটি মেয়ে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, তাদের ঘরের মধ্যে যেখানে লাশ ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে সেখানে কেউ ফাঁসি দিলে কোনভাবেই মরার কথা নয়। কারন একেবারে পাশে চকি,টেবিল ও চেয়ার দেখা গেছে। এলাকার লোকজনের সাথে কথা বললে তার অভিযোগের সত্যতার প্রমান পাওয়া যাবে বলেও জানায় সে । ঘটনার সময় তার বোন নিহত উর্মি ছাড়া তাদের পরিবারের অন্যকোন সদস্য ঘরে ছিলনা বলে জানান সম্পদ। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ।
ঘটনার পরের দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত নিতাই চন্দ্র দাসের বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মা জানান, ঘটনার পরে নিহতের পরিবারের লোকজন সন্দেহ করে আমার ছেলেকে আক্রমণ করতে আসলে সে ভয়ে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর থেকে নিতাই চন্দ্র দাস পলাতক রয়েছে এবং তার মোবাইল নাম্বারও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
নিহতের ভাই অভিযোগকারী সম্পদ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবী করেন।
এ ব্যাপারে চরজব্বার পুলিশ ফাঁড়ির এস আই ডালিম উদ্দিন মজুমদার জানান, ঘটনার দিন খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই। এ ব্যাপারে চরজব্বার থানার একটি ইউটি মামলা হয়েছে । পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট আসার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।








