নিউজটি শেয়ার করুন

সেনাবাহিনী ত্রাণ দিল মিয়ানমারের বিতাড়িত নাগরিকদের

সিপ্লাস প্রতিবেদক: সম্প্রতি কক্সবাজারের রামুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকদের মানবিক ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কক্সবাজারের রামু ক্যাম্পে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার (৪ মে) আরও ৫ হাজার ৯৮৭ রোহিঙ্গা পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সেনাবাহিনী।

আইএসপিআর জানায়, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন সম্প্রতি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (এফডিএমএন) ক্যাম্পে অবস্থিত পরিবারগুলোর জন্য ১০ কেজি চাল এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বিতরণের কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল ক্যাম্প ৮ (ওয়েস্ট) এর সর্বমোট ১৫৭৬ জনের মধ্যে উল্লেখিত ত্রাণ বিতরণ করার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে গত ০২ মে ২৬৫২ রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৪ মে) বালুখালী আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-৯ এ ১০ পদাতিক ডিভিশনের ৬৫ পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ৬৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৯৮৭ রোহিঙ্গা পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় এখন পর্যন্ত ১০,২১৫ ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারকে সর্বমোট ১০০ মেট্রিকটন চাল ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, কক্সবাজারের রামুতে  অবস্থিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (এফডিএমএন) ক্যাম্প ৮(ইস্ট), ৮(ওয়েস্ট) এবং ক্যাম্প ৯ এ গত ২২ মার্চ আনুমানিক বিকেল তিনটার দিকে ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে। এ অগ্নি দুর্ঘটনায় ক্যাম্প ৮ (ইস্ট) এ ১৫৭৮টি, ক্যাম্প ৮ (ওয়েস্ট) এ ২৬৫২টি এবং ক্যাম্প ৯ এর ৫৯৮৭টি ঘরবাড়ি ভষ্মিভূত হয়। এছাড়া ১৫ জন নিহত হন বলে জানা যায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, রামু সেনানিবাসের অধীন উখিয়া, বালুখালী এবং পালংখালী আর্মি ক্যাম্প অগ্নি নির্বাপনের প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে রামু সেনানিবাস থেকে ফায়ার ব্রিগেডের একটি দল মেডিক্যাল টিমসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নিয়ে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।