সিপ্লাস প্রতিবেদক: স্বামীকে খুনের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম পুলিশ; অথচ ওই নারীই ছিলেন হত্যামামলাটির বাদী।
হত্যাকাণ্ডের পর থানা পুলিশ কোনো কূল-কিনারা করতে না পারার পর তদন্তে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এক বছর পর তারাই হত্যারহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে।
পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, ‘পরকীয়ায়’ বাধা দেওয়ায় স্বামী রফিকুল ইসলামকে (৪৫) খুন করান উম্মে সালমা (৩০)। এতে তার সহযোগী ছিলেন সাকিবুল ইসলাম। আর খুনটি করেন মো. এমরান নামে এক ব্যক্তি, যাকে ভাড়া করা হয়েছিল।
গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে সীতাকুণ্ড-হাটহাজারী সড়কের রেলওয়ে ওভারব্রিজের কাছে লাউ ক্ষেত থেকে রফিকুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তখন রফিকুলের স্ত্রী সালমা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন। আট মাস তদন্ত শেষে কিছু না পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ মামলাটি হস্তান্তরের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে আসে পিবিআই।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়ার আনন্দ নগর থানা এলাকা থেকে রোববার সালমাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই, চট্টগ্রাম জেলার এসআই কামাল আব্বাস জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার আগে গত ২৪ ও ২৬ অক্টোবর সাকিব ও এমরানকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ছুরি উদ্ধার করা হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সাকিব ও এমরান হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন, তাতে সালমার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “সাকিবের সাথে সালমার পরকীয়া ছিল। বিষয়টি রফিকুল ইসলাম জেনে যাওয়ায় তার স্ত্রীকে মারধর করে এবং তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়।
“এনিয়ে সাকিব ও সালমা মিলে রফিকুলকে খুন করার পরিকল্পনা করে। এজন্য তারা ৩০ হাজার টাকা দিয়ে এমরানের সাথে চুক্তি করে।”
তদন্ত কর্মকর্তা কামাল জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের দিন রফিকুলকে টেলিফোনে ডেকে সীতাকুণ্ড-হাটহাজারী সড়কের রেলওয়ে ওভারব্রিজের কাছে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সালমা নিজেও ছিলেন, তবে আড়ালে।
“পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা জবাই করে রফিকুলকে খুন করে লাশ পাশ্ববর্তী লাউ ক্ষেতে পুঁতে রেখে পালিয়ে যায়।”
এসআই কামাল বলেন, “সাকিব ও এমরান জানিয়েছে, সালমা তাদের আশ্বস্থ করেছিল এ মামলায় তাদের কিছু হবে না। কারণ সে নিজেই বাদী হবে।”
সালমা লাশ নিয়ে তার শ্বশুড় বাড়ি নাটোর যাওয়ার পর সেখান থেকে বগুড়ায় তার বাবার বাড়িতে চলে যান, তারপর থেকে তিনি আর চট্টগ্রামে আসেননি।
“থানা পুলিশ তাকে বিভিন্ন সময়ে মামলার বিষয়ে আসতে বললেও তাদের সহায়তা করেনি,” বলেন পিবিআই কর্মকর্তা কামাল।
এদিকে রোববার সালমাকে বগুড়ায় তার বাবার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামে এনে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানান এসআই কামাল।








