নিউজটি শেয়ার করুন

স্বামী-স্ত্রীসহ ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার: ৮ টি ডায়মন্ড, ১১টি মোবাইল ও টাকাসহ মালামাল উদ্ধার

স্বামী-স্ত্রীসহ ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার

সিপ্লাস প্রতিবেদক: স্বামী স্ত্রীসহ ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত একটার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে ৮ টি ডায়মন্ড, নগদ ২০ হাজার টাকা, ১১ টি মোবাইল, ১৬টি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং ১ টি সিএনজি’র হুড কেটে নেওয়ার কাটার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়ার মো. আকাশ, তার স্ত্রী তানিয়া বেগম, হালিশহর এলাকার আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং বন্দরের সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার তাজুল ইসলাম।

এদের মধ্যে মূল ছিনতাইকারী মো. আকাশ। তার স্ত্রী তানিয়া তাকে সহযোগিতা করতেন। বাকী দুজন পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে ছিনতাইয়ের টাকার ভাগ নিতেন বলে জানায় পুলিশ।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন সিপ্লাসকে বলেন, গত রমজানে সিএনজির পর্দা কেটে এক তরুণীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায় আকাশ। তখন থেকেই তাকে ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ। অবশেষে গতকাল রাতে আকাশ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়। আকাশ অভিনব পন্থায় ছিনতাই করে। তার প্রধান টার্গেট সিএনজি চালিত অটোরিকশা। চলন্ত সিএনজির পেছনে উঠে সেকেন্ডের মধ্যেই সিএনজির পর্দা কেটে ভেতরে থাকা যাত্রীর ব্যাগ, মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনা ঘটাতে তার সময় লাগে ২০ সেকেন্ড। এর পাশাপাশি গাড়ির জানালার পাশে বসা যাত্রীদের মোবাইল ছিনিয়ে নিতেও সিদ্ধহস্ত আকাশ। জানালার পাশে বসা কোন যাত্রী ফোনে কথা বললে চোখের পলকেই সেটা নিয়ে হাওয়া হয়ে যায় সে।

তিনি আরো জানান, ১০ বছর ধরে ছিনতাই করে আকাশ। আগে সে নারী ছিনতাইকারী ফারজানার গ্রুপে কাজ করত। পরে ফারজানার গ্রুপ থেকে বের হয়ে এখন নিজেই এখন ছিনতাই করে। গত ৩ বছরেই ২ শতাধিক ছিনতাই করেছে বলে জানায় সে। ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা পর্যন্ত তার মূল অপরাধ সীমানা। সে একদিনে একটি ছিনতাই করে ভাল আয় হলে কয়েকদিন চুপ থাকে। কিন্তু আয় খারাপ হলে একইদিনে একাধিক ছিনতাইও করে। একসময় চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকের চাকুরি করত আকাশ। তখন বন্দরে চলাচলরত গাড়িগুলো থেকে কৌশলে ড্রাইভারের মোবাইল ছিনিয়ে নিত। তার স্ত্রী তানিয়া তার সম্পর্কে সব জেনেই বিয়ে করেছেন তাকে। শুধু জেনেই বসে থাকেন নি, স্বামীর অপকর্মে সহযোগিতাও করেছেন সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে। আকাশ ছিনতাইয়ের পর সব মালামাল জমা রাখতেন স্ত্রীর কাছেই! আবার স্বামী ধরা পড়লে আদালত পাড়ায় ছুটতেন স্ত্রী তানিয়া। আকাশ এর আগেও ৩ বার গ্রেফতার হয়েছে পুলিশের হাতে। প্রতিবারই জামিন করান স্ত্রী তানিয়া। সর্বশেষ এপ্রিলেও গ্রেফতার হয় আকাশ। জেলও খাটে। তাকে আবারও জামিন করান তানিয়া। কিন্তু জামিনে বের হয়ে আবারও একই কাজে নেমে এবার ধরা পড়ে যায় আমাদের হাতে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ‘ছিনতাই করে অনেক মূল্যবান জিনিস অনেকটা বিনামূল্যে বিক্রি করে দিত আকাশ। যেমন লাখ টাকা দামের একটি আইফোন বিক্রি করেছে মাত্র ৬৫০ টাকায়। তাছাড়া ছিনতাই করা ব্যাগে পাওয়া ডায়মন্ড না চিনতে পেরে ফেলে দিচ্ছিলো সে, পরে আনোয়ার ও তাজুলের কথা শুনে রেখে দেয়। গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে আনোয়ার ও তাজুল নিজেদের পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে ছিনতাইয়ের এক তৃতীয়াংশ অর্থ নিয়ে নিত।’

আকাশের বিরোদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় তিনটা মামলা ছিলো। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ মহসীন।