Site icon CPLUSBD.COM

স্বীকৃতির ৭বছর পর এবারের চসিক নির্বাচনেও ‘হিজড়া’রা ভোট দেবেন নারী বা পুরুষ হিসেবে

স্বরূপ ভট্টাচার্য: সরকার হিজড়াদের ‘লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পেোরেশন নির্বাচনে হিজড়ারা ‘হিজড়া’ লিঙ্গ বা ’তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

আগামী ২৭ জানুয়ারী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে হিজড়াদের আগের মতো ‘নারী’ অথবা ‘পুরুষ’ হিসেবে ভোট দিতে হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম শহরে ৫হাজারের অধিক হিজড়া বসবাস করলেও ভোটার তালিকায় তাদের লিঙ্গ অর্ন্তভূক্ত না হওয়ায় হিজড়াদের সঠিক সংখ্যাও নির্ধারণ করা যাচ্ছেনা।

২০২০সালের জানুয়ারী মাসে ভোটার হালনাগাদ করনের সময় নতুন করে হিজড়ার সংখ্যা নির্ধারণ না হওয়ায় চট্টগ্রামে হিজড়া ভোটার কত তার সঠিক তথ্যও পাওয়া যাচ্ছেনা। ঐ সময় হিজড়াদের লিঙ্গ নির্ধারণ করাও হয়নি।

মূলত চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাসরত হিজড়াদের উপেক্ষা করে আগের ভোটার তালিকা তৈরী ও  ভোটার হালনাগাদ করণ করা হয়েছে বলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর লোকজন অভিযোগ করেছেন।

গত ২০১৩ সালে নভেম্বরে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশের ৭বছর পার হলেও এবারের চসিক নির্বাচনে ভোট দিতে না পারায় হিজড়াদের অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

মিতা হিজড়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করেন, আমরা অনেকেই পরিবারের সাথে থাকি আবার অনেক হিজড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একসাথে থাকে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় আমরা সরকারি কর্মীদের লিঙ্গ হিসাবে আমাদের হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গ লিখতে বলেছিলাম কিন্তু তা করা হয়নি। তবে অনেক জায়গায় হালনাগাদের জন্য কর্মীরা যায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কমিশনের এক সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, সরকার হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘হিজড়া’ লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যে কারণে ভোটার তালিকায় নারী ও পুরুষের মতো হিজড়াদেরও পৃথক লিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতাও দেখা দিয়েছে।

ঐ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা বিধিমালা সংশোধন করে হিজড়াদের লিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোনো হিজড়া ইসিতে যোগাযোগ করলে তাঁর তথ্য সংশোধন করে ‘নারী’ অথবা ‘পুরুষ’–এর স্থলে ‘হিজড়া’ করে দেওয়া হবে।

কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের ২বছর পার হলেও ভোটার তালিকায় কোন পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে হিজড়ারা ‘নারী’ অথবা ‘পুরুষ’ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান সিপ্লাসকে  বলেন, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা অনেক আগেই তৈরি হয়ে গেছে। এই তালিকায় হিজড়াদের লিঙ্গ নারী বা পুরুষই রয়েছে। তাই হিজড়াদের এবারের চসিক নির্বাচনে নারী বা পুরুষ হিসাবেই ভোট দিতে হবে।

তিনি বলেন, হিজড়া নিজেরাই ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়েছেন নারী বা পুরুষ পরিচয়ে। অনেকে হিজড়া পরিচয় দিতে চাননা ফলে ভোটার তালিকায় তাদের নাম নারী বা পুরুষ হিসাবে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।