
সিপ্লাস ডেস্ক: স্বেচ্ছা নির্বাসিত সাবেক এক নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে দেশে ফেরাতে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তার ছেলে-মেয়েকে জিম্মি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ড. সাদ আল-জাবরির বড় ছেলে খালিদ বলেছেন, বাবাকে সৌদি আরব ফেরাতে মার্চে তাদের রিয়াদের বাড়ি থেকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছোট ভাই ওমর ও বোন সারাহকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এরপর থেকে ২১ ও ২০ বছর বয়সী দুই ভাই-বোনকে নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ খালিদের।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ড. সাদকে ধরতে সৌদি আরব এখন তার পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাবেক কর্মকর্তারাও অভিযোগ করেছেন।
“১৬ মার্চ ভোরে ২০টি গাড়ি করে আসা ৫০ জনের মতো নিরাপত্তা কর্মী ওমর ও সারাহকে বিছানা থেকে তুলে অপহরণ করেন। আমাদের রিয়াদের বাড়িতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে, সিসিটিভির মেমোরি কার্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে, ২১ ও ২০ বছর বয়সী দুই ভাইবোনকে নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে,” বলেছেন খালিদ আল-জাবরি।
কী অভিযোগে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ তা জানায়নি।
“আমরা জানি না, তারা এখন জীবিত না মৃত,” টেলিফোনে এমনটাই বলেছেন বাবার সঙ্গে কানাডায় থাকা খালিদ।
ড. সাদের এ বড় ছেলের ধারণা, বাবাকে সৌদি আরব ফেরাতে দরকষাকষির গুটি হিসেবেই তার দুই ভাইবোনকে আটক করা হয়েছে।
সৌদি আরব ফেরার পরপরই ড. সাদকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে নিক্ষেপ করা হবে বলে অনুমান তার স্বজনদের।
“তারা (সৌদি কর্তৃপক্ষ) তার নামে যে কোনো মিথ্যা সাজাতে পারে, কিন্তু তিনি নির্দোষ,” বলেছেন খালিদ।
ড. সাদের দুই ছেলে-মেয়েকে আটক এবং এ নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সৌদি আরবের সাবেক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফের ঘনিষ্ঠ সহচর ড. সাদের সঙ্গে একসময় যুক্তরাজ্যের এমআই সিক্সসহ পশ্চিমা বিভিন্ন গুপ্তচর সংস্থার দহরম-মহরম ছিল।
২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ ইস্ট মিডল্যান্ড বিমানবন্দরের শিকাগোগামী একটি বিমান থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে নিস্ক্রিয় করেছিল; সৌদি গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্যেই যুক্তরাজ্য ইয়েমেনের আল-কায়েদার বানানো বোমাটি সম্বন্ধে খোঁজ পায়। এ ঘটনার জন্যও সাদকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।
“বিমানটি যদি শিকাগোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত, তাহলে কয়েকশ লোক প্রাণ হারাতেন। ড. সাদ সৌদি আরবের সন্ত্রাসবাদবিরোধী সংস্থাগুলোর চেহারাই বদলে দিয়েছিলেন,” বলেছেন পশ্চিমা এক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এক কর্মকর্তা।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর ডক্টরেট ডিগ্রি নেয়া স্বল্পভাষী সাদ একসময় সৌদি আরবের মন্ত্রিসভার সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেজর-জেনারেল পদেও ছিলেন।
২০১৫ সালে সৌদি বাদশা আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর তার সৎভাই সালমান সিংহাসনে বসার পর থেকেই ড. সাদের ক্ষমতা কমে আসে।
সালমান ২০১৭ সালে তার ছেলে মোহাম্মদকে ক্রাউন প্রিন্স বানিয়ে নায়েফকে সরিয়ে দেন। ওই বছরই সাদ দেশ ছেড়ে পালান।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা সাদকে এখনও হুমকি মনে করছেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
খালিদ জানিয়েছেন, মার্চে তার দুই ভাইবোনকে তুলে নেয়া হলেও তারা এতদিন ধরে ‘নিরপেক্ষ কোনো জায়গায়’ সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছেন।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই পুরো ঘটনা জনসম্মুখে খুলে বলতে হল, বলেছেন খালিদ।
“আমাদেরকে এ পথে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আমরা দেশপ্রেমিক। দেশকে ভালোবাসি। সৌদি আরব বিব্রত হয়, এমন কিছু করতে চাইনি আমরা। কিন্তু ওমর আর সারাহকে যেভাবে অপহরণ করা হল, এটা রাষ্ট্র কর্তৃক দিনেদুপুরে ডাকাতি,” বলেছেন তিনি।







