নিউজটি শেয়ার করুন

হজযাত্রীদের হজ পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বলেছেন সৌদিআরব

সিপ্লাস ডেস্ক: ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ হজের আনুষ্ঠানিকতা চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবার কথা। যা শেষ হবে ২ আগস্ট। তবে হজ পরিকল্পনার জন্য মুসলিম বিশ্বকে অপেক্ষা করতে বলেছে সৌদি আরব।

মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত হজ পরিকল্পনা বিলম্ব করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপরিচালিত টেলিভিশন আল-এখবারিয়ায় এ আহ্বান জানান সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মেদ সালেহ বিনতেন।

বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই বিষয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। করোনাভাইরাস যাতে সৌদির পবিত্র শহরগুলোতে (মক্কা-মদিনা) ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য চলতি মাসের শুরুতে বছরব্যাপী ওমরাহ স্থগিত করার ঘোষণা দেয় সৌদিআরব। এমনকি সাময়িক সময়ের জন্য পবিত্র কাবার তাওয়াফও বন্ধ করে দেয়া হয়।

এদিকে চলমান এই পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে মুসলমানদের বার্ষিক এই ধর্মীয় ইবাদত। সপ্তাহব্যাপী চলা ধর্মীয় এই ইবাদতে অংশ নিতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মক্কা ও মদিনায় জড়ো হন প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি মুসলিম। তবে এটা শুধু মুসলমানদের জন্য ধর্মীয় ইবাদতই নয়, সৌদিআরবের আয়ের একটি বড় উৎসও। আলজাজিরার তথ্য মতে সৌদির হজ ও ওমরাহ

বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের বরণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে সৌদিআরব। কিন্তু চলমান পরিস্থিতির কারণে আমরা মুসলিম ও দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। এজন্য আমরা বিশ্ব মুসলিম ভাইবোনদেরকে বলব, করোনা পরিস্থিতির অবসান না হওয়া পর্যন্ত হজ পরিকল্পনা স্থগিত রাখুন।’ তবে এর আগেও বেশ কয়েকবার মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছিল হজ করতে আসা হাজীরা। কলেরার কারণে ১৮২১ সালে প্রায় ২০ হাজার এবং ১৮৬৫ সালে প্রায় ১৫ হাজার হাজী মারা গিয়েছিল।

এছাড়াও ২০১৪ সালে ইবোলা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ থেকে নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল সৌদিআরব। তবে এই অবস্থায় সৌদি হজ বাতিল করলে তা হবে বর্তমান সময়ের জন্য এক বিরল ঘটনা।  সর্বশেষ সৌদিতে এ পর্যন্ত দেড় হাজার করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত করা গেছে। মারা গেছেন ১০ জন। আর বিশ্বজুড়ে প্রাণ কেড়েছে ৪২ হাজারের বেশি।

ধর্মীয় বিধান ছাড়াও হজের সাথে রয়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতির বিশাল যোগসূত্র।