ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির মা বলেছেন জড়িতরা সবাই অপরাধী।
বুধবার রায় ঘোষণার পর জয়পুরহাটের স্থানীয় একদল সাংবাদিককে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাদিসুর রহমান সাগরের মা বলেন, “আমার ছেলে হোক আর যেই হোক, যারা হামলা করেছে জঘন্য অপরাধ করেছে।”
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাত আসামির বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষণার সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া জানতে সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের কয়রাপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে যান।
হাদিসুরদের অস্বচ্ছল পরিবারের চালাতে বাড়ির সাথেই রয়েছে একটি ছোট মুদি দোকান। যেখানে শাড়ি পরিহিত তার মাকে জিনিসপত্র বেচতে দেখা যায়। সাংবাদিকরা পৌঁছালে তিনি দোকান থেকে বাড়ির ভেতরে গিয়ে কথা বলেন।
সে সময় তিনি আরও জানান, হলি আর্টিজান হামলার কয়েক বছর আগে বাড়ি থেকে সাগর নিরুদ্দেশ হন।
মাঝে মধ্যে হাদিসুর বাড়ি আসলে তার চালচলনে বেশ পরিবর্তন দেখেছিলেন বলে জানান তার মা।
“পরে জানা যায় সে জঙ্গী সংগঠনের সাথে জড়িত।”
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হন ২২ হন, যাদের ১৭ জনই বিদেশি। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ তরুণের কমান্ডো অভিযানে মারা পড়ে। হামলায় জড়িত আরও অনেকে পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন। জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তার আটজনকেই কেবল বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
এ মামলায় ফাঁসির রায় প্রাপ্তদের একজন হাদিসুর রহমান সাগর। যিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের কয়রাপাড়া গ্রামের এক বৃদ্ধ পল্লী চিকিৎসকের ছেলে।
তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মেঝভাই সাগর ২০০৫ সালে কয়রাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে। তবে ২০০৭ সালে বানিয়াপাড়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাশ করতে পারেননি। এরপর কিছু দিন এক কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেন তিনি বলে স্বজনরা জানান।
আমদই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহানূর আলম সাবু বলেন, “ছেলেটা অনেকদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিল।”
“পরে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার কথা জানতে পারি।”







