নিউজটি শেয়ার করুন

হাইকোর্টের নির্দেশ পেলেও অবৈধ ইটভাটা না ভাঙতে চট্টগ্রামে ৩ এমপির তদবির!

নিজস্ব প্রতিবেদক: “উচ্চ আদালতের নির্দেশে অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস কার্যক্রম শুরু করেছি কিন্তু কাজ করতে গিয়ে পদে পদে নানা বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। ইতিমধ্যে তদবিরে ৩ সাংসদের ফোনও পেয়েছি। সবমিলে কাজ করার স্বাধীনতা অনেকটা খর্ব হয়ে গেছে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম অঞ্চল) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ২৬ ডিসেম্বর (শনিবার) ‘অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা বিষয়ক’ এক কর্মশালায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

গেল ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কাট্টলী এলাকায় ৩ ও লোহাগাড়া-সাতকানীয়ায় ৭টি অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস করে এসব ফোন পেয়েছেন বলে ইঙ্গিত করেন তিনি। যদিও তিনি তাদের সম্মানার্থে নামগুলো উল্লেখ করছেননা বলেও জানান।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থাও গ্রহণ করছি। তবে জনবল সংকটের কারনে অনেক সময় জরিমানা করেও তা আদায় করা সম্ভব হয়নি। অনেকে আংশিক দেয়, অনেকে দেয়না আবার অনেকে আদালতে গিয়েও রিট করে বসে থাকে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু মামলা নিষ্পত্তি করেছি।

এসময় পরিবেশ অধিদপ্তরে জনবল সংকটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভবন সম্প্রসারণ ও জনবল বাড়নোর জন্য। আশা করি এ সংকট শীঘ্রই কেটে যাবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর গবেষণাগার চট্টগ্রামের পরিচালম ইশরাত রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার অতিরিক্ত মহপরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবেশ এবং শিল্প দুটোই রক্ষা করতে হবে। শিল্প কলকারখানার নামে পরিবেশ ধ্বংস করা যাবেনা। তবে ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ এবং শিল্প ক্ষেত্র অনেক বড়। বিশেষ করে দুটো ইকোনোমিক জোন। আমরা সারাদেশ জুড়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। দেশের বিভিন্ন বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পরে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আশা করি ২০২৫ এর মধ্যে আর দেশে কোন অবৈধ ইটভাটা থাকবেনা।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সমর্থিত একটি সুত্রের মাধ্যমে জানা যায়, যদি ঐ সাংসদরা এভাবে উনাদের তদবির অব্যাহত রাখেন তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম নামগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য হবে।

এদিকে, পাহাড় কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা জেলা উপ-পরিচালককে হুমকি দিচ্ছেন এমন একটি অডিও ক্লিপ ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ায়। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরের ঐ কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের মধ্যে কুমিল্লা ছাড়া করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরমধ্যে চট্টগ্রামে অবৈধ ইটভাটার পক্ষে এমপিদের তদবির ভাবিয়ে তুলেছেন সমাজ সচেতন ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের।