নিউজটি শেয়ার করুন

হাটহাজারীতে মাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করে তারা

মোঃ আলমগীর হোসেন, হাটহাজারী প্রতিনিধি: অবৈধ পথে কোটি কোটি টাকা আয় রোজগারের চেয়ে বৈধ উপায়ে রোজগারের এক টাকাও অমূল্য।

অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন ধর্মীয় ভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ভাবেও নিষিদ্ধ। বৈধ পথে আয় রোজগারের মাধ্যম হউক যতই ছোট, তাতে থাকে গর্ব করার মতো মানসিক প্রশান্তি। প্রান্তিক পর্যায়ে বহু পেশাজীবি মানুষ আছে যারা সারাদিন কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।

প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা কিংবা সরকারী বেসরকারী চাকুরী এবং জনমুখে উচ্চারিত বহু পেশার আড়ালে থাকা একটি পেশার নাম মাছ কাটা।

মাছ বাজারে মাছের দোকানের পাশে থাকে মাছ কাটা পেশায় নিয়োজিত থাকে ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক বহু মানুষ।

যারা মূলত আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে কেজি প্রতি নির্দিষ্ট অংকের টাকা গ্রহণের মাধ্যমে মাছ কাটেন। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবি নারী পুরুষ থেকে শুরু করে সবশ্রেণীর ক্রেতাই মাছ কেটে নিচ্ছেন।

কাটাযুক্ত মাছগুলোতে কেজি প্রতি ২০ টাকা ও কাটা ছাড়া যেকোন মাছ কেজি প্রতি ১৫ টাকা হিসেবে কেটে থাকেন এই পেশাজীবীরা।

আমি নিজেও একজন ক্রেতা হিসেবে নিয়মিতই মাছ কেটে নিই বাসায়।

ব্যক্তিগত কৌতুহল থেকে এ পেশায় নিয়োজিত থাকা একাধিকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, বৈধ পথে ইনকাম করছেন, এতেই তারা খুশি এবং দৈনন্দিন আয়ও হয় ভালো।

কোন প্রকার দেশ ও সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত না হয়ে কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে যতটুকু রোজগার করছেন, এতেই সন্তুষ্টি আদায় করছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেই অন্যান্য দিনগুলোর থেকে দিগুণ রোজগার করেন তারা।

ধারালো দা বটি ও ছুরি দিয়ে খুব দ্রুতই মাছ কাটতে পারায় সামান্য কিছু টাকা খরচের মাধ্যমে বাজার থেকেই মাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে সবশ্রেণীর মানুষ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই মাছ কাটার কাজ। তাই মাছ কাটাকে পেশা হিসেবে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে হাটহাজারী উপজেলার প্রায় শতাধিক পরিবার।

হাটহাজারী পৌরসভার মাছ বাজার, চারিয়া, সরকারহাট, কাটিরহাট, ইছাপুর,মদনহাট,চৌধুরীহাট, বড়দীঘির পাড়,আমান বাজার, নজু মিয়ার হাটসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাজারে মাছ কাটার পেশায় জড়িত ৮ থেকে ১০ জন।

বড় অনুষ্ঠানের জন্য কেউ মাছ কিনলে ওই মাছ চাহিদা অনুযায়ী তারা কেটে পিস করে দেন। প্রতি কেজি মাছ কাটার জন্য নেওয়া হয় ১৫-২০ টাকা।

হাটহাজারী পৌরসভার মাছ বাজারে মাছ কাটা পেশায় নিয়োজিত মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একটানা চলে মাছ কাটার কাজ। এই পেশায় ধারালো একটি বটি, কাঠের টুকরা বা ‘খুটা’ ও ঝিনুকের খোসাই একজন কাটাইয়ার জন্য দরকারি বস্তু। তবে এ পেশায় দক্ষ হাতের বিকল্প নেই। এই মাছ বাজারে বাজারবারসহ সপ্তাহে প্রতিদিন আমরা প্রায় ৫০জনের মত মাছ কাটি।