সিপ্লাস প্রতিবেদক: হাটহাজারীতে হেফাজতের তাণ্ডবে জড়ানোর অভিযোগে একটি মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর হেলালকেও আসামী করা হয়েছে। মামলায় হেফাজতে ইসলামের আহ্বায়ক কমিটির আমির হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী ও উপজেলা জামায়েতের আমিরসহ আরও ১৪৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। এর বাইরেও অজ্ঞাত পরিচয় তিন হাজার জনকে তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।
গত ২৬ ও ২৭ মার্চ হাটহাজারী থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) হাটহাজারী থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। যদিও সোমবার(২৬এপ্রিল) তা জানাজানি হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) তৌহিদুল করিম বলেন, ‘গত ২৬ ও ২৭ মার্চে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার সব ডকুমেন্টস আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পৃথক তিন মামলার এজাহারে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে হাটহাজারী সদর, ইছাপুর বাজারে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও রাস্তায় দেয়াল দিয়ে আসামিরা অস্থিরতা সৃষ্টি করে। আসামিরা ২৬ থেকে ২৮ মার্চ রাস্তায় দেয়াল নির্মাণ, থানা ও ভূমি অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ পুলিশের ওপর হামলা করেন।
একটি মামলার বাদী চট্টগ্রাম পুলিশের জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কনস্টেবল মো. সোলায়মান। এ মামলায় বাবুনগরী, হেফাজত নেতা মীর ইদ্রিস, নাছির উদ্দিন, জাকারিয়া নোমান, আহসান উল্লাহসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় দেড়শ থেকে ২শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। কনস্টেবল মো. সোলায়মানকে ২৬ মার্চ মাদ্রাসার ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখার পরের দিন সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরেক মামলার বাদী হাটহাজারী থানার পরিদর্শক আমির হোসেন। এ মামলায় জুনায়েদ বাবুনগরী, হেফাজত নেতা জাকারিয়া নোমান ও উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আসামি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার জন। এ মামলাটি করা হয় সড়কে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির দায়ে।
অন্যদিকে হাটহাজারী থানার এসআই হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে তৃতীয় মামলাটি করেছেন। এ মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইকবাল, উপজেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান শিকদারসহ ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আসামি আড়াইশ থেকে তিনশ জন। তাদের বিরুদ্ধেও ইছাপুর বাজারে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, থানা ও ভূমি অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়।
গত ২৬ মার্চ হেফাজতের তাণ্ডবের পাঁচ দিন পর গত ৩১ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা ভবনে হামলা, ভূমি অফিসে ভাঙচুর, ডাকবাংলোয় আগুন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়টি ও পটিয়াতে একটি মামলা করে পুলিশ। হাটহাজারী থানায় চারটি ও পটিয়ায় একটি মামলার বাদী পুলিশ। আর ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা দায়ের করেন দুটি মামলা। তবে প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হলেও কারো নাম নেই এসব মামলায়। সাত মামলার সব আসামিই অজ্ঞাত। ওই সময় থেকে মামলাগুলো তদন্ত করছিল পুলিশ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে হাটহাজারীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা থানায় হামলা চালালে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। হাটহাজারীতে চারজন নিহত হন। নিহতের জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা হাটহাজারী থানা, ডাকবাংলো, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হামলা চালান। তাঁরা হাটহাজারী-খাগড়াছড়ি সড়কের ওপর দেয়াল তৈরি করে তিনদিন অবরোধ করে রাখেন।








