নিউজটি শেয়ার করুন

হাটহাজারীতে ৫’শ টাকায় মিলছে বোর্ড পরীক্ষার সনদ

হাটহাজারী পৌরসদরের বিভিন্ন কম্পিউটার প্রিন্টের দোকানে অনেকটা প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে জাল সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র। অশিক্ষিত ব্যক্তিদের হাতেও ৫’শ, এক হাজার টাকার বিনিময়ে এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, ডিগ্রি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ এমনকি জাতীয় পরিচয় পত্র, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সনদপত্র দিচ্ছে কিছু অসাধু এ ব্যবসায়ীরা।

সাধারণভাবে দেখলে বোঝারই উপায় নেই এগুলো জাল। এসব সনদপত্র ও সার্টিফিকেট নিয়ে অনেকে চাকরিও করছেন। সম্প্রতি নতুন ভোটার হালনাগাদে প্রয়োজনীয় জাতীয় সনদ, জন্ম সনদ না থাকা ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে সংগ্রহ না করে সহজেই অনেকেই এখান থেকে নিচ্ছেন ভুয়া এইসব সনদ। জরুরি প্রয়োজনে মাত্র কয়েক মিনিটে পাওয়া যাচ্ছে এসব সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন সনদপত্র। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এসব অপকর্ম।

সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে চলা অভিযানে ধরা পড়েছে এমন একটি কম্পিউটার প্রিন্টের দোকান।

হাটহাজারী পৌরসদরে মডেল থানার পূর্ব পাশে মোস্তফা মার্কেটে “সততা প্রোডাক্টস” কম্পিউটার প্রিন্টের দোকানে জাল সনদপত্র ও বিভিন্ন পরীক্ষার সার্টিফিকেট তৈরি করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত দোকানের মালিক নজরুল ইসলাম ও কর্মচারী মোঃ ফাহিমকে আটক করে। পরে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে এবং পরবর্তীতে এমন অপরাধ না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মাদ রুহুল আমীন।

অভিযানে সহযোগিতা করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ, মডেল থানার এএসআই কামরুজ্জামান ও তার সঙ্গীয় ফোর্স।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটো পৌর প্রশাসক মোহাম্মাদ রুহুল আমীন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী বাজারে অবস্থিত আল-মোস্তফা মার্কেটে “সততা প্রোডাক্টস” কম্পিউটার প্রিন্টের দোকানে অভিযান পরিচালনা করি। এসময় বিপুল পরিমাণ কম্পিউটারে সংরক্ষিত জাল জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স ও ডিগ্রির বিপুল পরিমাণ ভুয়া নম্বরপত্র (মার্কশিট) ও সনদপত্র (সার্টিফিকেট) জব্দ করা হয়। ওই কারবারের সঙ্গে জড়িত দোকানের মালিক ও এক কর্মচারীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি সিপিইউ ও একটি মনিটর জব্দ করা হয়। পরে তাদেরকে পাবলিক পরীক্ষাসমুহ (অপরাধ) আইন-১৯৮০, ৫ ধারা মতে জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, সততা প্রোডাক্টসের মালিক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাল সনদপত্রের কারবার করছিল। তারা আসল সনদপত্রের মতোই দেখায় এমন একটি কাগজে বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্য জুড়ে দিয়ে কালার প্রিন্ট দিয়ে জাল সনদপত্র বানাতো। এসব সনদপত্র পাঁচশ, এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকায়ও বিক্রি হতো।