সিপ্লাস প্রতিবেদক: অসৎ উপায়ে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে আদালত।
বুধবার (১৩ অক্টোবর) আদালত নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
এ বিষয়ে জানতে দুদক চট্টগ্রাম অঞ্চলের পিপি এডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, রোহিঙ্গা লাকী ও তার দুই মেয়েকে পাসপোর্ট করতে অসৎ উদ্দেশ্যে জাতীয় সনদপত্র ও জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদানের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা জজ মো ইসমাঈল হোসেন) আদালতের আদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মামলার শুনানির সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন না।
গত ১৩ অক্টোবর নুরুল আবছারের মামলার শুনানির নির্ধারিত তারিখ ছিল । সেদিন নুরুল আবছার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বেইল প্রেয়ার বা টাইম পিটিশন কোনটাই দেননি আদালতে। সে কারনে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন দুদক। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন এ মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলো- উপজেলার নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী, ডবলমুরিং নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক নূর আহমদ, কেরানীগঞ্জ নির্বাচন অফিসের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সত্য-সুন্দর দে, মির্জাপুর ইউপি’র ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম, মির্জাপুর ইউপির জন্ম সনদ প্রস্তুতকারী মোহাম্মদ বেলাল, দালাল মো. আব্দুল ছালাম ও তার পিতা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, রোহিঙ্গা লাকী আক্তার এবং নাজির আহমেদ।
রোহিঙ্গা লাকী ও তার দুই মেয়েকে পাসপোর্ট করতে অসৎ উদ্দেশ্যে জাতীয় সনদপত্র ও জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করে হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ,মির্জাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল ইসলাম, জন্ম সনদ প্রস্তুতকারী বেলাল উদ্দিন, , দালাল আজিজুর রহমান ও তার পিতা আব্দুস ছালাম।
তারা মূলত অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের যোগসাজশে রোহিঙ্গা নাগরিককে এনআইডি প্রদানে সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে জানতে মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের সাথে সিপ্লাস প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এই মামলায় আমি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলাম। দুই দফা নিম্ন আদালতে আমি হাজিরাও দিই। কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর আদালত আমার জামিন নামঞ্জুর করে আমাকে আত্মসমর্পনের আদেশ দেন। আমি আমার আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
তিনি আরো বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ষড়যন্ত্রের শিকার আমি। এসব মামলা-মোকদ্দমা , জেল-জুলুম দিয়ে আমাকে ভয় দেখানো যাবে না।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে এই ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মির্জাপুর ইয়নিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
উল্লেখ্য হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার নানা কারনে সমালোচিত। করোনার সময় ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারকে গত বছরের ১২ এপ্রিল সাময়িক বরখাস্ত করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।








