সিপ্লাস প্রতিবেদক: হালদার ডিম সংগ্রহকারীর প্রায় ৯৫ শতাংশ ডিমের রেণু অতিরিক্ত লবণ পানির কারণে নষ্ট হয়েছে। হাটহাজারীর শাহ মাদারী সরকারি হ্যাচারিতে এ ঘটনা ঘটে। একই অবস্থা হয়েছে হাটহাজারীর বাড়িঘোনা এলাকায়। সেখানেও লবণ পানির কারণে প্রায় ৫০টি মাটির কূয়ার রেণু নষ্ট হয়েছে।
হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের শাহ মাদারী হ্যাচারিতে এবার ১৯ গ্রুপের প্রায় ৮০ জন ডিম সংগ্রহকারী ৮০০ কেজি ডিম নিয়ে আসে। হ্যাচারির ৪৫টি সিস্টার্নের মধ্যে ২০টিতে বৃহস্পতিবার সকালে ডিম ফেলে পরিচর্যা শুরু করেন আহরণকারীরা। কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকে রেণুর নড়াচড়া কমে যেতে থাকে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার সকালে অধিকাংশ রেণু মারা যায়।
এ প্রসঙ্গে হ্যাচারি সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘হালদা পাড়ে সরকারি সব হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর জন্য মিঠা পানির পুকুর ও গভীর নলকূপ রয়েছে। কিন্তু এ হ্যাচারিতে কোনটিই নেই। হালদার লবণ পানি দিয়ে রেণু ফোটানোর কারণে প্রায় ৯৫ শতাংশ রেণু নষ্ট হয়। এ হ্যাচারিতে আমরা ৮০০ কেজি ডিম মজুদ করি। স্বাভাবিকভাবে রেণু ফোটানো গেলে অন্তত ২০ কেজি রেণু হতো। কিন্তু এখন ২ কেজি রেণু পাব কিনা সন্দেহ। রেণু নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। অথচ এ হ্যাচারিতে ২০২০ সালে ৪৭ কেজি রেণু হয়েছিল’।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘আমাদের মতো একই অবস্থা হয়েছে হাটহাজারীর বাড়িঘোনা এলাকায়। সেখানেও লবণ পানির কারণে প্রায় ৫০টি মাটির কূয়ার রেণু নষ্ট হয়েছে’।

এদিকে রেণু মারা যাওয়ার খবরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা মৎস্য অফিসার ফারহানা লাভলী।
তিনি বলেন, ‘এবার জোয়ারে অতিরিক্ত লবণ পানি আসে। লবণ পানিতে রেণু ফোটাতে গিয়ে রেণু নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। আগামীতে এ হ্যাচারির পুকুর খনন ও গভীর নলকূপ বসাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে’।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মো. মঞ্জুরুল কিবরীয়ার বলেন, ‘হালদায় এখনো লবণ পানি রয়েছে। লবণ পানি দিয়ে রেণু ফোটানোর কারণে শাহমাদারি হ্যাচারির রেণু নষ্ট হয়ে যায়। ভবিষ্যতে এ হ্যাচারিতে মিঠা পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর খনন ও গভীর নলকূপ স্থাপন না করলে ডিম ফোটানো ঝুঁকিপূর্ণ হবে’।
চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বশেষ শনিবার বিকেলে জোয়ারের সময় ল্যাবরেটরি টেস্ট করে হালদার পানিতে ১৯০০ মিলিগ্রাম পার লিটার লবণ পাওয়া গেছে। এর আগে ভাটার সময়ে পাই ৩৫০ মিলিগ্রাম পার লিটার। যেখানে সহনীয় মাত্রা হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম পার লিটার’।








