নিউজটি শেয়ার করুন

হালদার ডিম সংগ্রহ করার আগেই খুন হলেন মৎস্যজীবী বিতান বড়ুয়া; থানায় মামলা

নিহত বিতান বড়ুয়ার স্বজনদের আহাজারি।

রাউজান প্রতিনিধি: হালদার বুকে জাল-নৌকা নিয়ে মাছের ডিম সংগ্রহের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও ডিম সংগ্রহ করা হলো না বিতান বড়ুয়ার (৩৮)।

তার আগেই প্রকাশ্যে দিবালোকে নিজ বাড়ির পাশে হ্যাচারীর সামনে এলাকার দুই চিহ্নিত ইয়াবাসেবী ও সন্ত্রাসী রাহুল বড়ুয়া ও উদয়ন বড়ুয়া গুলি করে হত্যা করেন তাকে।

হত্যার পর তার পরিবারের সকলকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করেন।

গত রবিবার(২৬ এপ্রিল) বিকাল পাঁচটায় রাউজান পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের অংকুরীঘোনার অতুল মেম্বারের বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

সোমবার(২৭ এপ্রিল) বিকালে নিহতের মৃতদেহ সৎকারের পূর্বে তার মা শচী বড়ুয়া, স্ত্রী জয়শ্রী বড়ুয়া দশম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে জেসি বড়ুয়া ও তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে জিসান বড়ুয়া থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত দুইজন নাম সহ অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন। নিহতের স্ত্রী জয়শ্রী বড়ুয়া বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলা নং১১/২৭-০৪-২০২০।

নিহতের মা শচী বড়ুয়া বলেন, আমার ছেলে বাড়ির অদূরে হ্যাচারির দিকে গেলে আমিও পিছু পিছু ঘর হতে বের হই। এই সময় টাস করে আওয়াজ শুনলে মনে করি বিদ্যুতের জেনেটারে সমস্যা হয়েছে। পরক্ষণে মারে.. ডাক শুনে গিয়ে দেখে আমার ছেলে শুয়ে আছে। এই সময় অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী রাহুল বড়ুয়া আর উদায়ন বড়ুয়া বলেন তোর ছেলে মেরে ফেলেছি, তোদের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলব।

মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী জয়শ্রী বড়ুয়া ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছি। এই দুইজনকে গ্রেফতার করলে তাদের মদদদাতা কে তা বেরিয়ে আসবে। আমার স্বামী হালদার ডিম সংগ্রহ করে পোনা উৎপাদন করত। সেগুলো উপজেলা মৎস্য অফিস সহ নানান জায়গায় সরবরাহ করতেন। এছাড়াও পাঁচটি পুকুরে মাছের চাষ করতেন।

তার হত্যার ঘটনায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ মামলা রুজুর বিষয় নিশ্চিত করে বলেন রাহুল ও উদায়ন নামের দুইজন তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করেন। এই বিষয়টি তার মা, স্ত্রী প্রত্যেক্ষভাবে দেখেন। তাদের গ্রেফতারের আমরা তৎপর আছি। তাদের আটকের পর এই খুনের অন্তরালে কে বা কারা আছেন তা বের করা যাবে।

উল্লেখ্য,নিহত বিতান বড়ুয়া পেশায় একজন মৎস্যজীবী। প্রতিবছর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা তিনি প্রচুর পরিমানে মাছের ডিম সংগ্রহ করতেন। জানা যায়, তিনি স্থানীয় যুবলীগে সহ সভাপতি ছিলেন।

এলাকায় আধিপত্য নাকি ব্যবসায়িক বিরোধ ঠিক কি কারণে বিতান খুন হয়েছেন তা নিশ্চিত নন পুলিশ, তার পরিবার ও স্থানীয়রা। তবে, পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক শক্তি জড়িত রয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে এলাকার শ্মশানে তার মৃতদেহের সৎকার সম্পন্ন করা হয়।