নিউজটি শেয়ার করুন

হালিশহরে কঙ্কাল উদ্ধারে রহস্য উদঘাটন: জমি বর্গা চাষা থেকে সখ্যতা, অত:পর খুন

সিপ্লাস প্রতিবেদক: হালিশহরে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকারী সােহরাব হােসেন (৫৫) কে আটক করেছে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, আটককৃত সােহরাব হােসেনকে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানার সিন্দুৰ্ণা ইউনিয়নের মৃত মনছুর আকন্দের ছেলে। আটকের পর অভিযুক্ত সােহরাব হােসেন আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারােক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

বিগত ২০২০ সালের ২ মার্চের হালিশহরের চৌচালা এলাকায় ওয়াসা প্রকল্পের সীমানার পিলার খনন করার প্রাক্কালে মাটির গর্তের মধ্যে একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষের কঙ্কাল দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা হালিশহর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে।

পুলিশ অজ্ঞাতনামা মৃত ব্যক্তির ডিএনএ’র সাথে ভাই দাবিকারী সামছুলের ডিএনএ আলামত তুলনামূলক পরীক্ষার পর আদালতের নির্দেশক্রমে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো মামলাটি অধিগ্রহণ করে।

তিনি আরও জানান, ভিকটিমের ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা যায় লাশটি নীলফামারীর গৌরগ্রামের আজিজিয়া রহমানের ছেলে রুবেল (২৭)। ৬ বছর আগে আসামি সোহরাব গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট থেকে চট্টগ্রামের হালিশহর মােল্লাপাড়ায় এসে পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে।

এ সময় সে হালিশহর থানাধীন চৌচালা এলাকার ওয়াসার জমিতে চাষাবাদ করে। কৃষিকাজ করাকালে পাশ্ববর্তী জমির কৃষক মৃত রুবেলের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। সু-সম্পর্কের সুবাধে সােহরাব হােসেন সুদে ভিকটিম রুবেলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নিজে ও আরও কয়েকজনকে ২৬ হাজার টাকা নিয়ে দেয়।

সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ৫ মাস পরে ভিকটিম রুবেল ২৮ হাজার টাকা একত্রে ফেরত চাইলে আসামি সব টাকা দিতে না পারায় ভিকটিমের সাথে প্রায় সময় ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওয়াসার সীমানার জমিতে টাকা পাওনা নিয়ে ভিকটিম রুবেলের সাথে আসামির ঝগড়া হয়।

ঝগড়ার একপর্যায়ে ভিকটিম রুবেলকে আসামি সোহরাব ধারালাে দা দিয়ে মাথায় স্বজোরে কোপ দেয়। এতে রুবেল জ্ঞান হারায় এবং কিছুক্ষণ পর মারা যায়। আসামি তখন ভিকটিম রুবেলের পকেট থেকে তার ব্যবহৃত মােবাইলটি নিয়ে নেয়। পরে আসামি নিজেই ভিকটিম রুবেলের লাশের পাশেই কোদাল দিয়ে গর্ত করে তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলে।

একইদিন রাতে আসামি তার বন্ধু জাহেদের কাছে ভিকটিম রুবেলের ব্যবহৃত মােবাইলটি বিক্রি করে দেয়। ঘটনার ৩ দিন পর আসামি ভয়ে ঘটনাস্থল এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।