নিউজটি শেয়ার করুন

হেফাজতের সাথে স্থানীয় সাংসদের বৈঠক: সড়ক ছেড়েছেন মাদ্রাসার ছাত্ররা

সিপ্লাস প্রতিবেদক: হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে যানবাহন চলাচল। এনিয়ে হেফাজত ইসলামের সাথে বৈঠকে বসেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি।

শুক্রবার ( ২৬ মার্চ) প্রথম দফা বৈঠক চলে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। কিন্তু ওসি প্রত্যাহারসহ হেফাজত নেতাদের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রথম বৈঠকটি ব্যর্থ হয়। পরে রাত ১১টা থেকে আবার বৈঠক শুরু হয়।

ওই বৈঠকের পর হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী রাত পৌনে ১২টার দিকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদের মাদ্রাসায় ফেরার আহ্বান জানান। এরপর সড়ক থেকে মাদ্রাসায় ফিরে যান তাঁরা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে জুমার নামাজের পর ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতা–কর্মী ও মুসল্লিদের একাংশের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে দুপুরে বিক্ষোভে নামেন হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রসহ চারজন নিহত হন। পরে ছাত্ররা হাটহাজারী–নাজিরহাট সড়ক অবরোধ করেন।

এ বৈঠকে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত আছেন, মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা ইয়াহিয়ার,মুফতি জসীম উদ্দীন,মীর ইদ্রিস,মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনিরী।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন ও পুলিশ সুপার রশিদুল হক,মশিউদোল্লা রেজা,আব্দুল আল মাসুম,হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহাদাত হোসেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন,ওসি মো: রফিকুল ইসলাম।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন,চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ গণি চৌধুরী ও সাবেক সদস্য মনজুরুল আলম মনজু।

বৈঠক শেষে হেফাজত নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁদের কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। সাংসদ ও ডিআইজি বলেছেন, তাঁরা কিছু দাবি মেনে নিয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বৈঠক শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে হেফাজতের আমির মাদ্রাসার মাইকে শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসায় ফেরার আহ্বান জানান।