সিপ্লাস প্রতিবেদক: পুলিশ হেফাজতে টেরিবাজারের দোকান কর্মচারির মৃত্যুর ঘটনায় এক এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কামরুল হাসান নামে ওই এএসআই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বক্সিরহাট ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর শনিবার তাকে ‘সাসপেন্ড’ করা হয় সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান জানান।
গত বুধবার সন্ধ্যায় টেরিবাজারের মোহাদ্দেছ মার্কেটের প্রার্থনা বস্ত্রালয় নামে একটি দোকান থেকে বস্তাভর্তি কাপড় বের করার সময় দোকানের ব্যবস্থাপক গিরিধারী চৌধুরী (৬৫) ও অপর এক কর্মচারিকে টেরিবাজারের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। এসময় স্থানীয় বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কামরুল হাসান তাকে পুরানো ফাঁড়ির মাঠে নিয়ে যায়।
এরপর সেখানে অসুস্থবোধ করলে গিরিধারী চৌধুরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরপর এএসআই কামরুল ও দুই পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ মো. আব্দুর রউফকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। শুক্রবার রাতে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মেহেদী হাসান বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনে ‘অপেশাদার আচরণের’ জন্য এএসআই কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
“গিরিধারী চৌধুরীকে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে তদন্তে সেটির প্রত্যক্ষদর্শী প্রমাণ পাওয়া না গেলেও কাপড়ের বস্তা নিয়ে টানা হেঁচড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার সাথে থাকা অপর দোকান কর্মচারি নিখিল ও রিকশাচালককে এএসআই কামরুল চড় থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ পেয়েছে।”
এদিকে গত মার্চ মাসে বক্সিরহাট বাজারের এক দোকান কর্মচারিকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগও আছে এএসআই কামরুলের বিরুদ্ধে। সে ভিডিওটিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে।
ভিডিও প্রসঙ্গে ডিসি মেহেদী হাসান বলেন, “ভিডিও বিষয়টিও দেখা হয়েছে। সেটি অমানবিক। তবে এই অভিযোগ আমাদের কাছে আগে কেউ করেনি। এই ঘটনার তদন্ত করার সময় ভিডিওটিও আমরা পেয়েছি।
“সব মিলিয়ে এএসআই কামরুলের বিরুদ্ধে অপেশাদারিত্ব আচরণের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় যেসব ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেগুলো হবে।”








