নিউজটি শেয়ার করুন

১৪ বছর ধরে বাক্সবন্দী পড়ে আছে জীবানুমুক্তকরণ যন্ত্র রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচার হয়না !

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচার কক্ষ) চালু হওয়ার কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি।

এখানে অস্ত্রোপচার না হওয়ায় চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে জরুরী অস্ত্রোপচার করতে হয় রোগীদের। ২০০৬ সালে এই ক্যাম্পাসে নতুন ভবন নির্মিত হয়। তখন দ্বিতীয় তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষ চালু করা হয়। অস্ত্রোপচার না হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচে বারান্দায় ১৪ বছর ধরে বাক্সবন্দী পড়ে আছে জীবানুমুক্তকরণ যন্ত্র। বছরের পর বছর যন্ত্রটি হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকায় এটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, অস্ত্রোপচার কক্ষের ফটকের তালা ঝুলানো। ফটক থেকে দেখা যাচ্ছে ভিতরে অস্ত্রোপচার কক্ষের দুটিতেও তালা।

জানতে চাইলে অপারেশন থিয়েটারের(অস্ত্রোপচার কক্ষ) ইনচার্জ ও হাসপাতালের জ্যেষ্ট নার্স হাসিনা বেগম বলেন, “ দীর্ঘদিন ধরে এখানে যন্ত্রপাতিগুলো পড়ে আছে। এতদিন যন্ত্রে মরিচা ধরতে পারে। এখানে অবেদনবিদ ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় অপারেশন করা যাচ্ছেনা। অপারেশন থিয়েটার চালুর পর থেকে এখনো পর্যন্ত এখানে কোনো অপারেশন করা যায়নি। ”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচার কক্ষে এ্যানেসথেশিয়া মেশিন, দুটি অপারেশন বেড ও আনুসঙ্গিক সরঞ্জামাদি কক্ষের আলমিরাতে রয়েছে। দুটি কক্ষে দুটি এসি (শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ) লাগানো রয়েছে।

হাসপাতালে আসা নেজাম উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি বলেন, “এখানে স্বাভাবিক বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা থাকলেও অস্ত্রোপচার করতে হলে চট্টগ্রাম শহরের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অপারেশন এখানে না হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এখানে থাকতে চান না।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয় সূত্র জানায় , ১৯৬৫ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মিত হয়। ১৯৯৬ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৬ সালে এই ক্যাম্পাসে নতুন ভবন নির্মিত হয়। তখন দ্বিতীয় তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষ চালু করা হয়। ভবনের ২য় তলায় নারী ও শিশু ওয়ার্ড, ৩য় তলায় পুরুষ ওয়ার্ড, নিচতলায় ফার্মেসী ও বর্হিবিভাগের চিকিৎসা চলে। পুরো উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা ও পাশের রাউজান উপজেলার লোকজনও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ রোগী জরুরী বিভাগে সেবা নেন। ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। অন্তর্বিভাগে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব পালিত বলেন, “ অবেদনবিদ না থাকায় হাসপাতালে অপারেশন করা যাচ্ছেনা। অবেদনবিদ যদি পাওয়া যায় সপ্তাহে একদিন হলেও অপারেশন করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। পরে নিয়মিত অপারেশন করা হবে। হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে আমরা সব সময় তৎপর। ”