নিউজটি শেয়ার করুন

১৬৪ ধারায় জবানবন্দী না দিয়েই ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে ওসি প্রদীপ কারাগারে

কক্সবাজার ব্যুরোঃ মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় চার দফা ভিন্ন ভাবে ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চতুর্থ দফায় একদিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকাল চারটার দিকে র‌্যাবের একটি দল তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল ইসলাম জানান, সিনহা হত্যা মামলায় আটক বরখাস্ত সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারকে চার দফায় ১৫দিন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছেন। আমরা সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ছিল চতুর্থ দফায় ১দিনের রিমান্ডের শেষ দিন। শেষ দিনে তাকে আদালতের কাছে সোপর্দ করার পর আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে।
তিনি আরো জানান, সিনহা হত্যা মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত আসামী ওসি প্রদীপ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়নি।
আদালত সূত্র মতে, আত্মসর্ম্পনের দিন গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামীকে ৭দিন করে রিমান্ড দেয় আদালত। পরে ২৪ আগস্ট ৪দিন, ২৮ আগস্ট ৩দিন ও ৩১ আগস্ট ১দিনসহ মোট ১৫দিনে জন্য ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে রিমান্ড মন্জুর করে আদালত। আদালতের আদেশ পেয়ে এই ১৫দিন বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত সংস্থা র‌্যাব।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি মারিশবুনিয়ার একটি পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামি ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়। সিনহা হত্যার পর পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব।
এছাড়া হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিন এপিবিএন সদস্যকে গ্রেফতার করে এলিট ফোর্সটি। এনিয়ে মোট তের আসামী কারান্তরিণ। অপর দিকে, একই ঘটনায় টেকনাফ থানায় দুইটি ও রামু থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। সাক্ষী অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় পরে আরেকটি মামলা হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫টি মামলা হয়েছে। যার চারটি তদন্ত করছে র‌্যাব-১৫।