মিয়ানমার থেকে ফিরেছে ফিশিং বোটসহ বাংলাদেশি ১৭ জেলে। সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে মিয়ানমার হতে ফিশিং বোটসহ আটক ১৭ জেলেদের বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
শুক্রবার (৬ সিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় সেন্টমাটিন বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার শুন্য রেখায় কোস্টগার্ডের (সিজিএফ) তাজউদ্দিন জাহাজের কমান্ডারের হাতে ট্রলারসহ তাদের হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার জেলেদের মধ্যে ভোলার ১৩ জন, চট্টগ্রামের ২ জন, ঝালকাঠি ও মুন্সিগঞ্জ জেলার একজন করে রয়েছে।
ফেরত জেলেরা হলেন, ভোলা জেলার কুলাকুপার এলাকার মো: আলমগীরের ছেলে মো: আল আমিন, একই জেলার চরকলিপা এলাকার আব্দু রাজ্জাকের ছেলে মো: জহিরুল ইসলাম, উত্তর মাদ্রিস এলাকার নুর মোহাম্মদ পাঠোয়ারীর ছেলে মো: জসীম, জয়নাল আবেদীনের ছেলে নুরুল ইসলাম, মকবুল আহাম্মদের ছেলে মো: নাছের, পশ্চিম এওয়াজপুর এলাকার মৃত খোরশেদ আলম সওদাগরের ছেলে মো: কামাল সওদাগর, নুরাবাদ এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ ব্যাপারীর ছেলে আবুল কালাম, নীল কমল এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে বেলাল হোসেন, মৃত নজির আহাম্মদের ছেলে মো: মোতাহার, চুন্নাবাদ এলাকার মো: মিলনের ছেলে জাকির হোসেন, কন্দকার বারী এলাকার আবি আব্দুল্লাহর ছেলে আবুল কালাম, স্যার নুরুল আমিন ইউনিয়নের নজির আহাম্মদের ছেলে মো: ফারুক, এবারেক চকিদারের ছেলে মো: সেলিম, চট্রগ্রামের লাওর বিল এলাকার মৃত আব্দু জলিলের ছেলে মো: শাহ আলম, মৃত সোলাইমানের ছেলে মো: জসীম। মুন্সিগন্জ জেলার চাষি বারীগন্জ এলাকার মৃত তাহের আলী দেওয়ানের ছেলে আবু সৈয়দ, ঝালুকাটি জেলার শওকতগন্জ এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মো: নুরুজ্জামান।
এসময় বাংলাদেশের কোস্টগার্ড তাজউদ্দিন জাহাজের কমান্ডার মেজবাহ উদ্দীন এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে মিয়ানমারের রাখাইনের রাথিডং উপকূলের মাইও নদীর মোহনায় মিয়ানমার জলসীমায় দেশটির নৌবাহিনী বাংলাদেশী ১৭ জেলেসহ এফবি গোলতাজ-৪ (এফ-৬০৭৯) নামে একটি ফিশিং বোট সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। গত ২৯ নভেম্বর মাছ ধরতে চট্টগ্রাম হতে গভীর সমুদ্রে এ সব জেলে ট্রলার যোগে মাছ শিকারে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেদেশের জলসীমানায় ঢুকে পড়লে নৌবাহিনীর জাহাজ তা উদ্ধার করে।
কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন আরো বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় মিয়ানমার থেকে ফিশিং ট্রলারসহ ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এই প্রথম সাগরের মাঝখানে দুই দেশের আলোচানায় কোস্ট গার্ড জেলেদের ফেরত আনতে সক্ষম হয়। ফেরত জেলেদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ কোস্ট গার্ড জানায়, মিয়ানমার নৌবাহিনীর একটি জাহাজে গত বৃহস্পতিবার ফিশিংবোটসহ জেলেদের সিট্যুয়ে শহরে নিয়ে আসার সংবাদে সিট্যুয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি টীম তাৎক্ষণিক মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজে গিয়ে উদ্ধার জেলেদের সাক্ষাত নেয় এবং ফিশিংবোটসহ জেলেদের প্রত্যাবর্তন ও হস্তান্তরের বিষয়ে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট মিয়ানমার ইমিগ্রেশন তাদের গ্রহন করেন। শুক্রবার রাতে কনস্যুলেটের মিশন প্রধানের নেতৃত্বে ১৭ জন জেলেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিকটে আন্তর্জাতিক জলসীমার শূন্যরেখায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

