নিউজটি শেয়ার করুন

২৩০ সিমসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন অপারেটরের থ্রিজি-ফোরজি বন্ধ করে দিলেও রোহিঙ্গারা অবাধে স্বদেশী এমপিটি সিমকার্ডের মাধ্যমে নেট ব্যবহার করছে।

বুধবার রাতে উখিয়া থানা পুলিশের উখিয়ার কুতুপালং বাজারে অভিযান চালিয়ে ২৩০টি এমপিটি সিমকার্ডসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে।

আটককৃত রোহিঙ্গা যুবক হলেন- উখিয়ায় আশ্রিত বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের ক্যাম্প ১-এর আওতাধীন ব্লক-এ ৩২-এর নুরুল আলমের ছেলে মো. করিম (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে- মিয়ানমার থেকে সুকৌশলে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের জন্য সিমকার্ডগুলো আনা হয়েছিল।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফে দেশটির বিভিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের সিমকার্ড সচল থাকায় সুযোগের ব্যবহার করছে উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা খুন-নির্যাতন, মাদক সংশ্লিষ্টতা, প্রত্যাবাসনে একজনও রাজি না হওয়া এবং রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশের মতো নানা ঘটনায় দেশব্যাপী বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি, ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

ফলে এক মাস ধরে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের দুর্বল নেটওয়ার্ক দিয়ে নিজেদের মধ্যে সক্রিয় যোগাযোগ করতে না পেরে মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক নির্ভর হয়ে পড়েছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। এতে করে স্থানীয়রা মোবাইল নেটওয়ার্ক ভোগান্তিতে পড়লেও আত্মীয়স্বজনদের মাধ্যমে ঠিকই মিয়ানমার থেকে সিমকার্ড এনে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

উখিয়া থানার থানার ওসি আবুল মনসুর বলেন, মিয়ানমার থেকে সিমকার্ডগুলো নিয়ে আসা এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। আটক রোহিঙ্গা যুবকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-(২) উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে।

টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় শরণার্থী শিবিরগুলোতে নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক থ্রিজি ও ফোরজি বন্ধ করার পাশাপাশি নেটওয়ার্ক কমিয়ে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে। তবে বেশ কদিন যাবত রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ সক্রিয় রাখতে মিয়ানমারের সিমকার্ড এনে এখানে ব্যবহার করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ছিল।

রোহিঙ্গারা স্বদেশী সিমকার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে।