সিপ্লাস ডেস্ক: আলুর অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্যে আলু বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কেজিপ্রতি ২৫ টাকা দরে আলু বিক্রিতে নামবে।
রোববার সচিবালয়ে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন, আলুর পাইকারি বিক্রেতা, কৃষি বিপণণ অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী একথা বলেন।
টিপু মুনশি বলেন, “ক্রেতাদের সাশ্রয়ী মূল্যে আলু সরবরাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবি ট্রাক সেলের মাধ্যমে আলু বিক্রি শুরু করবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা মূল্যে বিক্রয় করবে টিসিবি।”
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারনির্ধারিত মূল্যে বাজারে আলু বিক্রি নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে।
দেশে প্রয়োজনীয় আলু মজুদ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আলু সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই। কোনো অবস্থাতেই অধিক লাভ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
“প্রচুর আলু আবাদ হয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে সবজির আবাদ কিছুটা ক্ষতি হবার কারণে আলুর চাহিদা বেড়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি আলুর দাম হবার কোন কারণ নেই।”
টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে একটি বিষয় বলা দরকার, কোল্ড স্টোরেজগুলোকে ২৩ টাকা বলা হয়েছে। আমাদের কৃষি দপ্তরে থেকে যিনি আসছেন ডিজি উনি ক্ষমতার কথাও বলেছেন।
“এই দামে যদি বিক্রি না করে সরকার কিন্তু কোল্ড স্টোরেজ থেকে মাল বের করে এই দামে বিক্রি করে সেই টাকা যে মালিক তাকে দেওয়া ক্ষমতা রাখে।”
সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে কোল্ড স্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর মূল্য ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খুচড়া পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে তিন স্তরে যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
“আলুর একটু চাহিদা বেড়েছে তবে কোনো অবস্থাতেই বিপদজনক পরিস্থিতি না।”
নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা ও তা নজরদারি করা হবে জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, “এই দামটা আমরা নির্ধারণ করিনি। তবে আমরা এই দাম দ্রুত বাস্তবায়নে যাবো। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এই দামটা আর একটু বিবেচনায় নিতে৷ সেখানে আমরা দুই এক দিনের মধ্যে বসে ২৩ টাকা থেকে যদি আরো এক টাকা বৃদ্ধির প্রয়োজন বলে সবাই মনে করে তাহলে দেখব।
“এই মুহূর্তে আমাদের যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করব। আর বাজারে যেটা ৩০ টাকা করা হয়েছে সেটা টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকায় বিক্রি করার চেষ্টা করব আমরা৷ বাজারগুলোতে আমাদের মনিটরিং টিম থাকবে এবং আছে। কাল থেকে র্যাব অভিযানে যাবে।”
বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় কৃষি বিপণণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব(রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব(আইআইটি) মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ(টিসিবি) এর চেয়ারম্যান ব্রি.জে মো. আরিফুল হাসান, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. মোস্তাক হোসেনসহ পাইকারী আলু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

