নিউজটি শেয়ার করুন

৩০ কোটি টাকা বকেয়া রেখেও ফ্যাক্টরিতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেল আরএসআরএম

৩০ কোটি টাকা বকেয়া রেখেও ফ্যাক্টরিতে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেল আরএসআরএম

সিপ্লাস প্রতিবেদক: ৪০ কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) আরএসআরএমের ( রতনপুর ষ্টীল রি- রোলিং মিল লিমিটেড)  ফ্যাক্টরিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল । কিন্ত তারা মাত্র দশ কোটি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে দীর্ঘ আট মাস পর আবারও উৎপাদনে যাচ্ছে । এখনো তাদের কাছে বিপিডিবির বকেয়া রয়ে গেছে ৩০ কোটি টাকা।

বিপিডিবির জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য ) বাধন বসাক বলেন, এই সময়ে আরএসআরএম কিস্তিতে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করে, তাই বোর্ড অথরিটি আরএসআরএমে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানিটি চাইলে এখন পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারবে।

দীর্ঘদিন ধরেই আরএসআরএমের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। এই কারনে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানিটি তাদের ব্যবসা পরিচালনা রাখার স্বার্থে কিস্তিতে বিল পরিশোধের আদেশ এনেছিল হাইকোর্ট থেকে।

কিন্তু তারা কিস্তিতেও তাদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হয়, ফলে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় বিচ্ছিন্ন করলে হাইকোর্টে আবারও তাদের বকেয়া বিল কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন করেন। আবার, তারা কিস্তিতে বকেয়া বিল পরিশোধের অর্ডার পায় হাইকোর্ট থেকে।

রতনপুর গ্রুপের পরিচালক মারজানুর রহমানও এক সপ্তাহ আগে পরিপূর্ন বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তিনি আরো জানান ফ্যাক্টরি আবার চালু করার প্রক্রিয়াধীন। আরএসআরএম বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ষ্টীল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যারা সাধারণত এমএস রড উৎপাদন করে থাকে।

১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত রতনপুর গ্রুপ নিজেদের নেতৃত্বস্থানীয় ষ্টীল কোম্পানি হিসেবে  প্রতিষ্টিত করে। এই কোম্পানির বাৎসরিক মোট ব্যবসার পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা প্রায়।

উল্লেখ্য ,২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর ফ্যাক্টরিতে শেষবারের মত উৎপাদন হয়েছিল। এরপর থেকেই উৎপাদন বন্ধ আছে। বেতন না পেয়ে আরএসআরএমের ৮০০ কর্মীর সবাই অন্যত্র চলে যায়। এখন তাদের দুই ফ্যাক্টরিতে শুধুমাত্র ৫০-৬০ জন পাহারাদার রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আরএসআরএমের অধীনস্ত চার কোম্পানির নামে ২২০০ কোটি টাকা ব্যাংক লোন রয়েছে। যা তারা ১০ টি ব্যাংক ও নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়েছিল।

পাশাপাশি এই ব্যববসায়ীক গ্রুপের বিরুদ্ধে ঋণ পরিশোধের ২০ টি মামলা আছে । যার মধ্যে দুটি মামলা করেন জনতা ব্যাংক। এই দুই মামলার বিবাদী এই গ্রুপের দুই কোম্পানির দুই মালিক। দুই মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাও বের হয়েছিল কোর্ট থেকে।

জনতা ব্যাংক লালদিঘী কর্পোরেট শাখায় এই গ্রুপের নামে ১২০০ কোটি টাকা লোন রয়েছে। যা দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ হিসেবে রয়েছে। এই ঋণের বিপরীতে তারা ৩১.১৭ একর জমি ব্যাংকে বন্ধক রাখে। যার বাজার মূল্য ঋণের বিপরীতে অতি অল্প।

এই গ্রুপের কাছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ দাতা ব্যাংক হল সোনালি ব্যাংক, লালদিঘী শাখা। সোনালি ব্যাংকের পাওনা ৬৩৪ কোটি টাকা। এই ঋণের বিপরীতে তারা মাত্র ৫.৩ একর জমি ব্যাংকে বন্ধক রাখে। এছাড়াও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ,আগ্রাবাদ ব্রাঞ্চ এই গ্রুপের কাছে মোট ৫৬ কোটি টাকা পাওনা ছিল।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইনেন্স , প্রাইম ফাইনেন্স এন্ড  ইনভেস্টমেন্ট মিলে এই গ্রুপের কাছে ২৮৯ কোটি টাকা পাওনাদার ছিলো।

এই গ্রুপের কাছে রূপালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার লিজিং ও বিডি ফাইনেন্সও পাওনাদার। বিডি ফাইনেন্স ইতিমধ্যে এনআই এ্যাক্টের অধীনে এই গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here