নিউজটি শেয়ার করুন

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজ ঘরে তুললো বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তামিম ইকবালের রেকর্ডময় ইনিংস আর মুশফিকুর রহিমের ফিফটির ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে হারিয়ে জিম্বাবুয়ের সামনে ৩২৩ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৮ রান করেন জিম্বাবুয়ে।

শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। সফরকারী দলের ওপেনার রেগিস চাকাভাকে লিটনের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন টাইগার পেসার শফিউল ইসলাম। এরপর অবিশ্বাস্য এক থ্রোয়ে জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলরকে রান আউট করেন মিরাজ। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের পর বল হাতে শন উইলিয়ামসের (১৪) উইকেট তুলে নেন মিরাজ।

২২৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়েও লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি জিম্বাবুয়ে। বরং টিনোটেন্ডা মুতুম্বোদজি আর ডোনাল্ড তিরিপানো মিলে টাইগার বোলারদের কঠিন সময় উপহার দিয়েছেন। এই দুজনের ঝড়ে ১৮ বলে ৪১ রান থেকে শেষ দুই ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ রান। নিজের নবম ও ইনিংসের ৪৯তম ওভারে শফিউল খরচ করলেন ১৪ রান।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ২০ রান। আল-আমিনের করা ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ২১ বলে ৩৪ রান করা মুতুম্বোদজি। এর আগে দুজনের জুটিতে আসে ৪৩ বলে ৭৮ রান। কিন্তু তিরিপানো থামার পাত্র নন। স্ট্রাইকিং প্রান্তে গিয়েই পরপর দুই ছক্কা মারেন তিনি। তবে পঞ্চম বলে ডট আর শেষ বলে ১ রান খরচ করেন আল-আমিন। ২৮ বলে ৫৫ রানের ঝড় তুললেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত দলে নাম লেখান তিরিপানো।

বল হাতে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল তাইজুল। ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন এই স্পিনার। ১টি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন মাশরাফি, শফিউল, মিরাজ ও আল-আমিন। এর মধ্যে আল-আমিন ছিলেন সবচেয়ে খরুচে (১০ ওভারে ৮৫ রান)। কম যাননি শফিউলও (৯ ওভারে ৭৬)।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনীতে ১০৬ বলে ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। এরপর ২৩ ইনিংস ও প্রায় দুই বছর পর পাওয়া সেঞ্চুরিকে দেড়শ’তেও পরিণত করেছেন তিনি। এজন্য এই বাঁহাতি ওপেনার খেলেছেন ১৩২ বল। এরপরও অবশ্য থামেননি তিনি। ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন।

বিদায় নেওয়ার আগে একটি অসাধারণ রেকর্ড গড়েছেন তামিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মালিক এতদিন ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (১৫৪৯)। তাকে পেছনে ফেলে এখন শীর্ষে তামিম (১৫৫৬)। ১৪০৪ রান নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৩ হাজার রানের চূড়াও স্পর্শ করেন তামিম। অবশ্য এই কীর্তি তিনি আগেই গড়েছিলেন। তবে তার আগের ১৩০১৪ রানের মধ্যে আইসিসি বিশ্ব একাদশের হয়ে ছিল ৫৭ রান।

মুশির বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ১০৬ রানের জুটি গড়েন তামিম। মাহমুদউল্লাহও দারুণ ব্যাট করছিলেন। কিন্তু তুলে মারতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের মাধেভেরের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হন ৫৭ বলে ৪১ রান করা এই ব্যাটসম্যান। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৩৪ রান যোগ করে বিদায় নেন তামিম।

তামিম বিদায় নেওয়ার পর মুম্বার বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন মেহেদি হাসান মিরাজ (৫)। টিকতে পারেননি মাশরাফিও (১)। তিরিপানোর  করা ইনিংসের ৪৯তম ওভারে মাশরাফির পর কোনো রান না করেই বিদায় নেন তাইজুল। শেষ ওভারে মিঠুন আর শফিউল মিলে যোগ করেন ৯ রান। মিঠুন অপরাজিত থাকেন ১৮ বলে ৩২ রান নিয়ে। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল।